উচ্চ ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখেই ভবন নির্মাণ

আপডেট : ০১ জুন ২০১৯, ২২:১১

বরিশাল নগরীর পলাশপুর ১নং গুচ্ছগ্রামের ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে থাকা উচ্চ ভোল্টেজের (৩৩ হাজার কেভি) বিদ্যুত্ সঞ্চালন লাইনের খুঁটি রেখেই ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। গুচ্ছগ্রামের ঐ জমি বিগত ৩০ বছর পূর্বে জনৈক মোশাররফ হোসেন বন্দোবস্ত পান। সম্প্রতি তিনি জমির দলিল পেয়ে হাসান মোল্লার নিকট বিক্রি করলে ঐ জমিতে ভবন নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ভবনের ঐ জমিতে ৩৩ হাজার কেভি বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইন থাকলেও জমির বর্তমান মালিক দোতলা ভবন নির্মাণ করেন। ওজোপাডিকো-২ এর আওতাধীন বিদ্যুতের সাব-স্টেশনের দেওয়াল ঘেঁষা ঐ বাড়ির মাঝ বরাবর বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখেই ভবন মালিক তার নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেন। সাব-স্টেশনের দেওয়াল থাকায় প্রথমে বিষয়টি বুঝতে পারেননি বিদ্যুত্ বিভাগের কর্মকর্তারা। দ্বিতীয় তলার কাজ শুরু হলে বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা এড়াতে নিজ উদ্যোগে ৩৩ কেভি লাইনের নিকট হইতে নিরাপদ দূরত্বে ঘর-বাড়ি ও স্থাপনা সরানোর জন্য ভবন মালিক হাসান মোল্লাসহ পার্শ্ববর্তী আয়নাল বেপারী ও শাহজাহান ফকিরকে চিঠি দেয় বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী অমূল্য কুমার সরকার। ঐ চিঠিতে বলা হয়, বিদ্যুতের লাইন ঘর নির্মাণের ২৭ বছর পূর্বে নির্মিত হয়েছে। বিদ্যুত্ আইন অনুযায়ী বৈদ্যুতিক লাইনের নিচে ঘর-বাড়ি ও স্থাপনা নির্মাণ করার বিধান নেই।

বৈদ্যুতিক খুঁটি সংযুক্ত করে ভবন নির্মাণকারী হাসান মোল্লা জানান, তিনি ১০ লাখ টাকা দিয়ে তিন শতাংশ জমি ক্রয় করে বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ভবন নির্মাণ করেছি। বিদ্যুত্ বিভাগের চিঠি পেয়ে তাদের নির্দেশনা মতো বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে ভবন সরিয়ে নেওয়ার জন্য সময় চেয়েছি।

এ বিষয়ে সহকারী প্রকৌশলী উত্পল চন্দ্র দে বলেন, ‘সাব-স্টেশনের দেওয়াল থাকায় আমরা প্রথমে বিষয়টি দেখতে পাইনি। দোতলার কাজ শুরুর পর বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে ভবন বিচ্ছিন্ন করতে বলা হয়েছে। ভবন মালিক ৩/৪ দিন সময় নিয়েছেন। এ ধরনের খুঁটির নিচে বসবাস কতটুকু নিরাপদ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈদ্যুতিক সুইচ বন্ধ হয়ে যায়। তবে ৩৩ হাজার কেভি লাইনের কাছে গেলে দুর্ঘটনা ঘটবে।

উল্লেখ্য, ৩৩ হাজার বিদ্যুত্ সঞ্চালনের ঐ লাইনটি জনবহুল পলাশপুরের উপর দিয়ে পোর্টরোডের দিকে চলে গেছে। এ সাব-স্টেশন থেকে এ করিম বাস্তুহারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত উচ্চ ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক লাইনটি বেশ কিছু আবাসিক ভবনের ওপর দিয়ে গেছে। ঐ বিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ভবনের গা ঘেঁষেই রয়েছে এই লাইনের অবস্থান।