ফরিদপুরে মারপিট, চাঁদাবাজি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ওসিসহ দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে আদালতে। রবিবার (২৭ মার্চ) জেলার ছয় নম্বর আমলি আদালতে এ মামলাটি দায়ের করেন ফরিদপুরের সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের ঠেনঠেনিয়া গ্রাামের বাসিন্দা মো. তকি মোল্লার ছেলে মো. মুরাদ মোল্লা (৪৬)। মুরাদ মোল্লা গট্টি ইউনিয়নের দুই নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য।
যে দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মারপিট, চাঁদাবাজী ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে এ মামলাটি করা হয়েছে তারা হলেন- সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশিকুজ্জামান ও ওই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. হান্নান।
এ মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী ইব্রাহিম হোসেন জানান, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য ফরিদপুর পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)কে নির্দেশ দিয়েছেন।
এছাড়া অভিযোগটি বিভাগীয় তদন্ত করে দেখার জন্য ডিআইজি (ঢাকা রেঞ্জ) এবং ফরিদপুরের পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছেন। এ মামলার পরবর্তি তারিখ ধায্য করা হয়েছে আগামী ১৮ এপ্রিল।
মামলার এজাহার সুত্রে জানা গেছে, মুরাদ মোল্লা গট্টি ইউনিয়নের তিন বারের নির্বাচিত ইউপি সদস্য। ২০২১ সালের ১১ নভেম্বর ইউপি নির্বাচনের আগে সালথা ওসি তার কাছে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অংকের টাকা দাবি করেন। তার দাবিকৃত টাকা না দিলে তাকে নির্বাচন করতে দেবে না বলে ভয়ভীতি দেখান। তিনি (মুরাদ) বাধ্য হয়ে ওসিকে ৭৫ হাজার টাকা দেন। পরবর্তিতে ওসি তার কাছে বিভিন্ন সময় আরও এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তিনি (মুরাদ) চাঁদার দাবিকৃত টাকা দেওয়ায় আক্রোশে তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ অসুস্থ থাকার পরেও তাকে ৩টি মিথ্যা মামলায় আসামি করেন। মুরাদের পায়ে রড লাগানো, তিনি ক্রেচ ছাড়া চলাফেরা করতে পারেন না।
এর আগে, ওই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সালথায় মানববন্ধব কর্মসূচি পালন করে মুরাদ ও তার সমর্থকরা। অপরদিকে মানববন্ধন ও মামলার খবর বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে রবিবার বিকেলে সালথা থানায় এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন ওসি মো. আশিকুজ্জামান।
সংবাদ সম্মেলনে ওসি বলেন, মো. মুরাদ মোল্যা তার দলপক্ষের গট্টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ তার ভাই জিহাদকে থানা হাজত হতে জোর চেষ্টা তদবির করেও ছাড়িয়ে নিতে না পেরে মুরাদ মোল্যার দীর্ঘদিন পূর্বে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ভাঙ্গা পা জনসম্মুখে প্রদর্শন করে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছে।
মামলার বিষয়ে ফরিদপুর পিআিইবির পুলিশ সুপার মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, আদালতের নির্দেশ আমার এখনও পাইনি। আদালতের নির্দেশ পেলে এ ব্যাপারে তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।
জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় জেলা পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। তিনি বলেন, দোষী প্রমাণিত হলে ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধ করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
