বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে যমুনায় নাব্য সঙ্কট দেখা দিয়েছে। ফলে চরের কৃষিপণ্য পরিবহনে একমাত্র ভরসা এখন ঘোড়ার গাড়ি। জানা যায়, সারিয়াকান্দির ১১টি ইউনিয়নের মধ্যে আটটি ইউনিয়ন যমুনার চরাঞ্চলে অবস্থিত। এসব চরের উর্বর জমিতে ধান, পাট, মরিচ, ভুট্টাসহ নানা ধরনের ফসল ফলছে। নদীর নাব্য না থাকায় এসব ফসল কৃষকরা ঘোড়ার গাড়িতে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে বসতবাড়িতে নিয়ে আসছেন। ফলে চরাঞ্চলে কৃষিপণ্য পরিবহনেও তারা ঘোড়ার গাড়ি ব্যবহার করছেন।
উপজেলার কাজলা ইউনিয়নের বাওইটোনা চরের কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, আমার বাপ-দাদারা নদী ভাঙার পর সদর ইউনিয়নের বন্যানিয়ন্ত্রণ বেঁড়িবাধে আশ্রয় নিয়েছে ৭০ বছর আগে। আমার বাড়ি থেকে চরের জমির দূরত্ব ৯ কিলোমিটার। বন্যার সময় নৌকায় জমিতে যেতাম। এখন বেশির ভাগ সময় পায়ে হেঁটেই জমিতে যাই। তবে ফসল বা কৃষিপণ্য বাড়িতে নিয়ে আসতে ঘোড়ার গাড়িই আমাদের একমাত্র ভরসা। উপজেলার চালুয়াবাড়ী ইউনিয়নের গেন্দা সরকার বলেন, ‘আগে নদীতে পানি আছিল, তাই ফসল ঘরে আনতে কোনো খরচই হয়নি। এখন নদীত পানি নাই। তাই ঘোড়ার গাড়ি দিয়ে ফসল বাড়িত আনতে বাড়তি খরচ হচ্চে।’
উপজেলার কাজলা ইউনিয়নের ঘোড়ার গাড়ি চালক বিল্লাল হোসেন জানান, ঘোড়ার গাড়ি দিয়ে আমি কৃষকের মালামাল পরিবহন করি। চর থেকে গাড়িবোঝাই ফসল বির এলাকায় নিয়ে যেতে প্রতি টিপে ৬০০-৭০০ টাকা ভাড়া নেই। এতে আমার সংসার খুবই ভালো চলছে। এ বিষয়ে সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল হালিম জানান, নদীর নাব্য সঙ্কটে কৃষকরা তাদের ফসলাদি পরিবহনসহ নানামুখী সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। তবে নাব্য না থাকায় যমুনার চরে কৃষি জমির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
