নীতি আদর্শ ও অধিকারে মানিক মিয়া কখনো আপস করেননি

আপডেট : ০১ জুন ২০১৯, ২২:১৪

স্বাধীন সংবাদপত্র পাঠক সমিতির উদ্যোগে গতকাল শনিবার সংবাদপত্র জগতের পথিকৃত্, স্বাধীন বাংলাদেশের অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা ও দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে “তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া, দৈনিক ইত্তেফাক ও আজকের বাংলাদেশ” শীর্ষক এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল নগরীর আন্দরকিল্লাস্থ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি সাংবাদিক এসএম জামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিনের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা ও সম্পাদক মইনুদ্দীন কাদেরী শওকত, বাণিজ্যিক রাজধানী বাস্তবায়ন পর্ষদ মহাসচিব সালেহ আহমেদ সুলেমান, প্রবীণ সাংবাদিক সরোয়ার উদ্দিন আহমেদ, সমিতির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, বিভাগীয় সমাজকল্যাণ ফেডারেশনের মহাসচিব হাফেজ মোহাম্মদ আমান উল্লাহ, অ্যাড. কবির কোরাইশি তালুকদার, আইনজীবী মোহাম্মদ আমির হোসেন, সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যাপক হুমায়ুন কবির, সহ-সভাপতি এসএম জহিরুল হক, সাংবাদিক শ্যামল নাথ ও আবদুর নূর চৌধুরী প্রমুখ।

সভায় বক্তারা বলেন, এদেশের সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতা জগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র মানিক মিয়া। তাঁর প্রতিষ্ঠিত দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকা ছিল স্বাধীনতা আন্দোলনের চালিকাশক্তি। নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে এবং মানুষের অধিকারের বিষয়ে মানিক মিয়া কখনো আপস করেননি। দৈনিক ইত্তেফাক ছিল তাঁর সেই সংগ্রামী জীবনের প্রধান হাতিয়ার। মানুষের প্রত্যাশা, বেদনাকে জোরালোভাবে তুলে ধরার অসীম ক্ষমতা ছিল মানিক মিয়ার। বক্তারা আরো বলেন, উপমহাদেশের খ্যাতিমান রাজনীতিক গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া ছিলেন একে অপরের সম্পূরক শক্তি। মানিক মিয়া আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের এক প্রেরণার নাম।

অনুষ্ঠানে মানিক মিয়ার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন এবং দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

ভাণ্ডারিয়ায় মানিক মিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) সংবাদদাতা

নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় গতকাল শনিবার বিনম্র শ্রদ্ধায় সাংবাদিক জগতের কিংবদন্তি ও দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে বাদ আছর তাঁর জন্মস্থান ভাণ্ডারিয়া উপজেলার পূর্ব ভাণ্ডারিয়া মিয়াবাড়ি জামে মসজিদ কমপ্লেক্সে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনায় মিলাদ মাহফিল ও দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

দোয়া মোনাজাতে মরহুমের ভ্রাতুস্পুত্র শিল্পপতি জাকির হোসেন নিজাম মিয়া, ভাণ্ডারিয়া সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি মাহ্মুদ হোসেন ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাহিবুল হোসেন মাহিম, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও আব্দুল আজিজ তালুকদার, বিএনপি নেতা মো. আলমগীর হোসেন সরদার এবং স্থানীয় প্রবীণ সমাজসেবীবৃন্দ ও বাইতুল কোরআন হাফেজিয়া জামিয়া আয়ে তাজবিদুল কোরআন মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শরিক হন। মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা আবুল কাসেম। এছাড়াও মরহুমের ভ্রাতুস্পুত্রদের উদ্যোগে উপজেলার ২২টি মাদ্রাসা, সকল লিল্লাহবোর্ডিং ও এতিমখানায় মিলাদ মাহফিল, দোয়া মোনাজাত এবং ইফতার ও উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়।

এদিকে পৃথকভাবে ভাণ্ডারিয়ায় কর্মরত বিভিন্ন পত্রিকার সাংবাদিকদের উদ্যোগে তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার জীবনীর উপর এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ভাণ্ডারিয়া প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ শঙ্কর জীত্ সমদ্দারের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক মো. মামুন হোসেন, হাসান ইমাম পান্না বেপারি, মো. আবুল কালাম আজাদ, মো. বশিরউদ্দিন, মো. শাহজাহান হোসেন, মো. লোকমান হোসেন, মো. সুমন মল্লিক, এইচ এম তরিকুল ইসলাম, মো. মিজানুর রহমান, শহিদুল ইসলাম মল্লিক প্রমুখ। 

বাদ জোহর ভাণ্ডারিয়া কাপুরিয়াপট্টি জামে মসজিদে মরহুমের আত্মার শান্তি কামনায় দোয়া মোনাজাতে অন্যান্যের মধ্যে শাহাবুদ্দিন ফাজিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. ফারুকুজ্জামান, আওয়ামী লীগ নেতা মো. নজরুল ইসলাম বিশ্বাস, বিএনপি নেতা আতিকুর রহমান দিলু আকন, প্রবীণ ব্যবসায়ী হাজী ইদ্রিস তালুকদার, স্বেচ্ছাসেবক লীগের উপজেলা সাধারণ সম্পাদক ওয়াহীদ মন্নান উজ্জল হাওলাদার এবং সাংবাদিক ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ শরিক হন। মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা মাসুম বিল্লাহ্।

অন্যদিকে বিকালে পূর্ব ভাণ্ডারিয়া মোল্লা ছোমেরউদ্দিন পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মেজবাউদ্দিনের উদ্যোগে পাঠাগার সংলগ্ন জামে মসজিদ ও সাংবাদিক কাজী ফজলুর রহমানের উদ্যোগে উত্তর পৈকখালী সমিতির হাট শহীদ কাজী দেলোয়ার শিশু নিবাস ও এতিমখানায় তার রুহের মাগফিরাত কামনা করে মিলাদ মাহফিল ও দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা নুর মোহাম্মদ ও হাফেজ মোস্তফা।