বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) শনিবার (২৬ মার্চ) স্বাধীনতা দিবসের শোভাযাত্রায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে ছাত্রলীগের এক পক্ষের নেতাকর্মীরা কয়েকজন ছাত্রীকে লাঞ্ছিত করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। ওইদিনের ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ চেয়ে সোমবার (২৮ মার্চ) ছাত্রলীগের অন্য পক্ষ সড়ক অবরোধ করেছে ও গাড়ি ভাঙচুর করেছে। ভাঙচুরের ঘটনা ভিডিও করতে গিয়ে আহত হয়েছেন এক ক্যাম্পাস সাংবাদিক।
সোমবার (২৮ মার্চ) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেডিয়াম সংলগ্ন নিরাপত্তা শাখার সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহত সাংবাদিক আব্দুল্লাহ ওমর আসিফ ময়মনসিংহের একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত। গাড়ি ভাঙচুরের ভিডিও করার সময় ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী তেড়ে এসে তাকে মারধর করে ফোন ছিনিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ কেয়ার সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ২৬ মার্চের ছাত্রী লাঞ্ছনার ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ চেয়ে সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখায় বিক্ষোভ করে বাকৃবির হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল, ফজলুল হক হল, শামসুল হক হল ও ঈশা খাঁ হলের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বিক্ষোভের একপর্যায়ে নিরাপত্তা শাখার সংযোগ সড়ক বন্ধ করে দেয় তারা। ওই সময় একটি প্রাইভেট কার ভাঙচুর করা হয় এবং চালকসহ গাড়ির যাত্রীদেরও মারধর করা হয়।
আহত সাংবাদিক আসিফ বলেন, 'সাংবাদিক হিসেবে আমি আমার দায়িত্ব পালন করছিলাম। এমন সময় একদল বিক্ষুব্ধ ছাত্রলীগ নেতাকর্মী আমার ওপর হামলা করে। এ সময় তারা এলোপাতাড়ি কিলঘুষি মারতে থাকে আমাকে। মারধরের সময় আমার ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। আমি এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাই ও সুষ্ঠু বিচার চাই।'
শামসুল হক হল ছাত্রলীগের সহসভাপতি শাহীন সুমনসহ আরও অনেকে এই হামলায় জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ আছে। তবে অভিযুক্ত শাহীন সুমন বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, 'আমি ছাত্রী লাঞ্ছনার প্রতিবাদ জানিয়ে আন্দোলনে উপস্থিত ছিলাম। কিন্তু আমি কারও গায়ে হাত তুলিনি।'
সন্ধ্যার দিকে সাংবাদিক ওমর আসিফের ওপর হামলার ঘটনায় ওই হলগুলোর ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশী নেতা ইমতিয়াজ আবির, আবু রায়হান মিথুন, সজীব চন্দ্র সরকার, নিলয় মজুমদার ও মিফতাহ সাংবাদিকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চান। এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে ঘটবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তারা।
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মহির উদ্দীন বলেন, 'এ সকল ঘটনায় আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। আমি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।'
