আখের রসে ভাগ্যবদল  

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০২২, ১৩:৫২

অভাব অনটনকে দূরে ঠেলে আখের রস বিক্রি করে ভাগ্যবদল করেছে হেকমত আলী। মানুষ সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখলেও অনেক স্বপ্নই বাস্তবে রূপলাভ করে না। স্বপ্নকে সামনে রেখেই বেঁচে থাকার লক্ষে সংগ্রাম করে যাচ্ছেন হতদরিদ্ররা। এদের মধ্যে হেকমত আলীও একজন।

যে বয়সে তার বই খাতা নিয়ে স্কুলে যাবার কথা, সেই বয়সে দারিদ্র্যতার কষাঘাতে বাবা আইয়ুব আলীর কে রস বিক্রিতে সহযোগিতা করতেন হেকমত। বার্ধক্যজনিত কারণে তার বাবা শয্যাগত হলে বাবার সংসার পরিচালনার দায়িত্ব সে নিজের কাঁধে তুলে নেয়। দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে আখের রস বিক্রি করে পরিবার পরিজন নিয়ে দিনাতিপাত করছেন হেকমত।

জানা যায়, ভয়াল যমুনার করাল গ্রাসে বাপদাদার জমিজমা ভিটামাটি হারিয়ে আজ সিরাজগঞ্জ শহরের মিরপুর ওয়াবদা রেলের কুঠি সরকারি জায়গায় বাবা-মা, ভাই-বোন ও ছেলে-মেয়ে নিয়ে ভাঙ্গা ঘরে বসবাস করেন। তিনি প্রাথমিক পর্যায়ে বাবার সাথে হস্তচালিত মেশিন দিয়ে আখের রস বিক্রি করলেও ১০ বছর আগে একটি ডিজেল চালিত মেশিন কিনেছেন। অভাব অনটনের মধ্যে দিয়েও তার ছেলে ও মেয়ে কে পড়াশোনা করাচ্ছেন। তার ভয় দারিদ্র্যতার কষাঘাতে তার একমাত্র পুত্র সন্তানকেও যেন আমার মতো আখের রস বিক্রি করতে না হয়। 

শহরের এস এস রোডস্থ বুলবুল তেলের মিলের গলির মাথায় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আখ মাড়াই করে রস বিক্রি করে থাকে। প্রতি গ্লাস ১০ টাকা করে বিক্রি করে প্রতিদিন ৬ থেকে ৭শত টাকা রোজগার করেন তিনি। গ্রীষ্মকালীন সময়ে এই রস ব্যাপকভাবে বিক্রি হলেও ঝড়, বৃষ্টির দিনে আর শীত মৌসুমে বিক্রি বন্ধ রাখা হয়। তাই গ্রীষ্মকালীন সময়ে জমানো টাকা দিয়েই শীতকালীন সময়ে পরিবারের যাবতীয় খরচ চালানো হয়। 
 
সে আরও জানায়, সিরাজগঞ্জ জেলার সলঙ্গা থানা ও গাইবান্ধা থেকে ঢাকাগামী দূরপাল্লার আখ বহনকারী ট্র্যাক গুলো হতে কড্ডার মোড়ে আখ নামানো হয়। যার ফলে দাম অনেকটাই বেশি পড়ে। প্রতি গ্লাস রস বিক্রি করে ৩ টাকার মতো লাভ হয়। রোডের ধারে কাজ করতে গিয়ে অনেক সময় অনেকেরই মন্দ কথা হজম করতে হয়। 

রস পানকারী কলেজ ছাত্র বকুল জানায়, গ্রীষ্মের দিনে এক গ্লাস আখের রস শরীরটাকে শীতল রাখে। প্রতিদিনই দুপুর ও বিকেলে আখের রসপান করার জন্য ব্যাপক ভিড় দেখা যায়।  

রসপানকারী ছোট্ট শিশু আওলাত বিন তাওহিদ এর মা জানায়, প্রতিদিন এই রাস্তায় ছেলেকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার পথে এখানে এসে জেদ ধরে বসে। তাই রিকশা থামিয়ে ছেলের শখ পূরণের জন্যই রস কিনে দেই।

ইত্তেফাক/এআই