তারল্য সংকটে কলমানি মার্কেটে চাপ বেড়েছে

আপডেট : ০১ জুন ২০১৯, ২২:২৪

ব্যাংকগুলোতে তারল্য সংকট কাটছে না। ফলে নগদ অর্থ সঙ্কটে পড়ে কলমানি মার্কেট থেকে প্রতিদিনই বড় অঙ্কের ঋণ করছে ব্যাংকগুলো। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজার থেকে প্রতিদিন প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা করে ধার করা হচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকও রেপোর বিপরীতে প্রায় প্রতিদিনই ধার দিচ্ছে। ঈদকে কেন্দ্র করে নগদ টাকার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় চাপ বেড়েছে। এর সাথে সাথে চাহিদা অনুযায়ী আমানত না আসায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত সপ্তাহের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত রবিবার আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজার থেকে ব্যাংকগুলো ধার নিয়েছে ৫ হাজার ৬৬৯ কোটি টাকা। এরপরদিন সোমবার ৬ হাজার ৬০৮ কোটি টাকা, মঙ্গলবার ৭ হাজার ১৭৪ কোটি টাকা, বুধবার ৬ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা এবং বৃহস্পতিবার সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা ধার নেয়। ব্যাংকাররা বলছেন, তারল্য সংকট ছাড়াও ব্যাংকগুলোর তহবিল ব্যবস্থাপনা ব্যয় বেড়েছে। এছাড়া খেলাপি ঋণও বেড়েছে। খেলাপির বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে বাড়তি প্রভিশন রাখতে হচ্ছে।

ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা জানান, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কলমানি মার্কেট থেকে ঋণ করা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে যখন কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত পরিমাণে ঋণ করতে থাকে তখন প্রতিষ্ঠানটির তারল্য সংকটকে নির্দেশ করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য মতে, ঋণের টাকা ফেরত না আসা ও আমানতের চেয়ে ঋণ বিতরণ বেড়ে যাওয়ার কারণে ব্যাংকগুলোতে তারল্য সংকট দেখা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮ সালের মার্চে যেখানে ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত তারল্য ছিল ৭৬ হাজার ৮৮৮ কোটি টাকা। এক বছর পর অর্থাত্ ২০১৯ সালের মার্চে অতিরিক্ত তারল্য কমে হয়েছে ৬৩ হাজার ৯২১ কোটি টাকা। অর্থাত্ তারল্য সংটক রয়েছে। সাধারণত, সংকটের সময় এক ব্যাংক অন্য ব্যাংক থেকে সাময়িকভাবে টাকা ধার নেয়। এক রাতের (ওভার নাইট) জন্য এই ধার দেওয়া হয়। এই ধার দেওয়া-নেওয়া কার্যক্রম সম্পন্ন হয় আন্তঃব্যাংক কলমানি মার্কেটে। নগদ টাকা ধারের চাহিদার ওপর এই মার্কেটের সুদহার ওঠানামা করে। প্রতি বছরই ঈদের আগে গ্রাহকদের নগদ টাকার চাহিদা বাড়ে কয়েকগুণ। ফলে এ সময় অনেক ব্যাংকে নগদ টাকা সংকট দেখা দেয়। এই সংকট মোকাবিলায় আন্তঃব্যাংক কলমানি বা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা ধার করে ব্যাংকগুলো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ৩০টিরও বেশি ব্যাংক এখন কম-বেশি ধার করে চলছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিআরআর (নগদ জমা) ও এসএলআর (বিধিবদ্ধ সঞ্চিতির হার) জমা রাখতে পারছে না।