ইউক্রেন-রাশিয়াকে যুদ্ধের ময়দান থেকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালাতে গিয়ে মস্কোর কট্টরপন্থিদের রোষানলে পড়েছিলেন রোমান আব্রামোভিচ। তার মুখপাত্র দাবি করেছেন, দুই পক্ষের শান্তি আলোচনায় মধ্যস্হতা করতে কিয়েভে অবস্হানের সময় রুশ এই ধনকুবেরকে বিষ দেওয়া হয়েছিল। তবে বিষ প্রয়োগের ঘটনার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন। রাশিয়ার দাবি, তথ্যযুদ্ধের অংশ হিসেবে এ খবর ছড়ানো হয়েছে।
গত সোমবার (২৮ মার্চ) বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এই মাসের শুরুতে কিয়েভে সন্দেহজনক ওই বিষ প্রয়োগের ফলে আব্রামোভিচের চোখে জ্বালাপোড়া এবং ত্বকে সমস্যা দেখা দিয়েছিল। তবে তিনি সেরে উঠেছেন বলে জানানো হয়। শুধু আব্রামোভিচই নন, আলোচনায় মধ্যস্হতাকারী দুই জন ইউক্রেনীয়ও একই অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, রাশিয়ার কট্টরপন্থিরা, যারা আলোচনা ভেস্তে দিতে চাইছিল, তারাই এই বিষ প্রয়োগের হোতা।
দেড় যুগ আগে সাবেক রুশ গোয়েন্দা আলেকজান্ডার লিটভিনেনকো যুক্তরাজ্যে পালিয়ে যাওয়ার পর বিষ প্রয়োগের শিকার হয়েছিলেন। যা ব্যাপক আলোচিত ছিল বিশ্বজুড়ে। তখন অভিযোগ উঠেছিল, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশেই লিটভিনেনকোকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করা হয়। ইউক্রেনের সাবেক প্রেসিডেন্ট রুশবিরোধী ভিক্টর ইউশেঙ্কোকে বিষ প্রয়োগের অভিযোগও রয়েছে রুশ এজেন্টদের বিরুদ্ধে।
এদিকে, শান্তি আলোচনার সময় রুশ ধনকুবের রোমান আব্রামোভিচের ওপর সন্দেহভাজন বিষ প্রয়োগের ঘটনার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছে ক্রেমলিন। রাশিয়ার দাবি, তথ্যযুদ্ধের অংশ হিসেবে এই খবর ছড়ানো হয়েছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, আব্রামোভিচকে বিষ প্রয়োগের খবরটি সত্য নয় এবং তথ্যযুদ্ধের অংশ।
গতকাল মঙ্গলবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদলের মধ্যে শুরু হওয়া শান্তি আলোচনায় রোমান ইব্রামোভিচকে উপস্হিত থাকতে দেখা গেছে। তবে ক্রেমলিন জানিয়েছে, তিনি রুশ প্রতিনিধিদলের আনুষ্ঠানিক সদস্য নন।
