বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতি পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করার জন্য: তথ্যমন্ত্রী

আপডেট : ০১ জুন ২০১৯, ২২:৩৯

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ট্রাক দাঁড়িয়ে আছে, চালক ঘুমিয়ে আছে। ২০১৩ ও ২০১৪ সালে সেই ট্রাকের মধ্যে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছিল। চালককে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। যারা রাজনীতির নামে মানুষ পোড়ায়, বাসে ট্রাকে আগুন দিয়েছিল তারা অমানবিক কাজ করেছেন। বিএনপি-জামায়াত রাজনীতি করেছিল মানুষের উপর পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করার জন্য।

শনিবার বৃহত্তর চট্টগ্রাম পণ্য পরিবহণ মালিক ফেডারেশন আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

তিনি আরো বলেন, রাজনীতি হচ্ছে মানুষের জন্য, মানুষ এবং সমাজের উপকারের জন্যই হচ্ছে রাজনীতি। জ্বালানো পোড়ানোর সেই অমানবিক রাজনীতিকে আমাদের প্রত্যাখ্যান করতে হবে। তখন তারা যত গাড়ির চালককে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে হত্যা করেছিল সবাইকে ১০ লাখ টাকা করে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সহায়তা করা হয়েছে। যারা আহত হয়েছিলেন এবং যাদের গাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছিল তাদেরকেও সহায়তা দেয়া হয়েছিল।

বৃহত্তর চট্টগ্রাম পণ্য পরিবহণ মালিক ফেডারেশনের সভাপতিত্বে চট্টগ্রামের তারকা হোটেল রেডিসন ব্লু’তে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রামের সিটি মেয়র আজম নাছির উদ্দিন, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াছ হোসেন, চট্টগ্রামের রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুখ, চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ কমিশনার মাহবুবুর রহমান, স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক দীপক চক্রবর্তী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন, জেলা পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা, হাটহাজারী উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম রাশেদুল আলম।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখার ক্ষেত্রে পণ্য পরিবহণ অতি গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক সময়ে পণ্য বন্দর থেকে সারাদেশে পৌঁছে দেয়া গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার গত দশ বছরে সড়ক নেটওয়ার্কের ব্যাপক পরিবর্তন এনেছেন। দেশের দক্ষিণাঞ্চলসহ ঢাকা-চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, সিলেটসহ প্রত্যেকটি বিভাগীয় শহরের সাথে সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক সড়কের কাজ শেষ হয়েছে। সম্প্রতি দেশের লাইফ-লাইন খ্যাত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দুটি সেতু উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ছাড়া কিছু মহাসড়কের কাজ এখনো চলমান। ফলে পণ্য পরিবহনের সঙ্গে যে ঝামেলা ছিল সেগুলো অনেকটা দূর হয়েছে। ‘পায়রা ও মোংলা বন্দরকে ঘিরে ব্যাপক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ওই অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ উন্নয়নে একাধিক প্রকল্প নিয়েছে সরকার।’ দেশ যে এখন এগিয়ে যাচ্ছে সেই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হলে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে হবে।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে যেসব অসুবিধা ছিল তা দুর করা হয়েছে। আমাদের দেশে সড়ক ও গাড়ি বৃদ্ধির সাথে সাথে দুর্ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে। দুর্ঘটনা যাতে কমে সেদিকে নজর দিতে হবে। দুর্ঘটনায় শুধু সাধারণ মানুষ নয় পণ্য পরিবহণের সাথে যুক্তরাও দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। এবং মানুষ নিহত ও আহত হচ্ছেন।

প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চালকরা যাতে গাড়ি চালান সেদিকে মনযোগ দেয়ার অনুরোধ জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে যত গাড়ি আছে তত গাড়ির ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। এব্যাপারে সকলের সম্মিলিত মনযোগ দেয়া প্রয়োজন। মালিক সমিতি যদি কড়াকড়ি আরোপ করে জাল লাইসেন্স দিয়ে গাড়ি চালানো রোধ করা সম্ভব। লাইসেন্স প্রাপ্ত চালক নিয়োগ দেয়াসহ তাদের পর্যাপ্ত বিশ্রামের ব্যবস্থা রাখতে হবে। একজন চালককে যদি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২০ ঘণ্টা গাড়ি চালাতে বলা হয় তার পক্ষে গাড়ির শৃঙ্খলা ধরে রাখা সম্ভব নয়। এসব রোধ করা গেলে দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব।

ইত্তেফাক/আরকেজি