পাবনায় সাঁথিয়া চলতি বছর পেঁয়াজ ঘরে তুলতে শুরু করে দিয়েছেন কৃষকরা। বর্তমান বাজার দাম কম থাকায় লোকসানের আশংকায় ভুগছে কৃষক। দেশের প্রায় ৭০ ভাগ পেঁয়াজের চাহিদাপূরণে সক্ষম হলেও দাম কম থাকায় ভালো নেই পাবনার পেঁয়াজ চাষিরা।
পাবনার সাঁথিয়া কৃষি অফিস ও কৃষক সূত্রে জানা যায়, সাঁথিয়া উপজেলায় ১৫ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে চলতি বছর এ উপজেলায় পেঁয়াজের আবাদ ও উৎপাদন ৭৫০ হেক্টর বেশি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩১ মার্চ) উপজেলার সবচেয়ে বড় হাট কাশিনাথপুর সাপ্তাহিক পেঁয়াজের হাট ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে পেঁয়াজ ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা দামে বিক্রয় হচ্ছে। এতে অধিকাংশ কৃষক ভুগছে লোকসানের আশংকায়।
গৌরীগ্রামের গ্রামের পেঁয়াজ রোপনকারী কৃষক আজম আলী জানান, এত খরচের পরও পেঁয়াজের বাজার এ বছর কম থাকায় আমরা আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। সরকার পেঁয়াজের বাজার আমাদের অনুকূলে না রাখলে কৃষকরা এ আবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে।
বোয়াইলমারী গ্রামের আমজাদ ক্ষোপের সাথে জানান, হাটে ৫ মন পেঁয়াজ এনেছিলাম। প্রায় ১ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে ৭৫০ টাকা মন দরে বিক্রি করেছি। ১মন পেঁয়াজ উৎপাদন করতে খরচ হয়েছে প্রায় ১২০০ থেকে ১৩০০টাকা। ঋণের টাকা দিতে জায়গা জমি বিক্রি করতে হবে। উপজেলার ধনী শ্রেণির কৃষকরা জমির পেঁয়াজ ঘরে সংরক্ষণ করছে বেশি দামের আশায়। তবে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও দারিদ্র শ্রেণির কৃষকদের বিভিন্ন প্রয়োজনে হাটে পেঁয়াজ বিক্রয় করতে হচ্ছে। এতে করে তারা কম দাম পাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়ছে।
হাটের ইজাদাররা বলেন, মৌসুমের সময় দেশের বাইরে থেকে পেঁয়াজ আমদানি করায় বাজারগুলোতে দেশের উৎপাদিত পেঁয়াজের দাম কম।
সাঁথিয়া উপজেলার কৃষি অফিসার কৃষিবিদ সঞ্জীব কুমার গোস্বামী জানান, চলতি বছর জমিতে পেঁয়াজের ভালই উৎপাদন হয়েছে। কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের সাধ্যমত পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
