মার্কিন বাহিনী আফগানিস্তান ত্যাগ করার পর ক্ষমতায় বসে তালেবান গোষ্ঠী। কিন্তু যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে কোনোভাবেই অর্থনীতির চাকা সচল করতে পারছে না তারা। যার কারণে ভয়াবহ সংকটে পড়েছে কয়েক কোটি আফগান।
ফারাহানাজ তাদেরই একজন। একসময় কাজ করতেন রেডিওতে। কিন্তু তালেবান কর্তৃক ক্ষমতা দখলের পর চাকরীচ্যুত হন। আটজনের পরিবারে এখন এই তরুণীই একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষ।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ফারাহানাজ ভালো কোনো খাবারা খেতে পেরেছেন ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় আগে। তবে তিনি বলছেন আরও ভয়াবহ কথা। ফারাহানাজ জানান, আমরা বড়রা না হয় মানিয়ে নেই। কিন্তু যখন শিশুরা খাবার চায় তখন কিছু করার থাকে না। আমি জানি না তাদের কি উত্তর দেবো।
আফগানিস্তানে খাদ্য সংকট এতো চরম আকার ধারণ করেছে যে, ফারাহানাজদের শুধু রুটি খেয়েই দিন পার করতে হচ্ছে। মাঝে মাঝে সবজি খাওয়ার সৌভাগ্য হয় তাদের। চায়ে চিনি ব্যবহার করাও তারা ভুলে গেছে। চিনি যেন তাদের কাছে বিলাশবহুল কিছু।
ফারাহানাজ জানান, আমার বোনের কিছুদিন আগে অপারেশন হয়েছে। এখন তার সুস্বাদু খাদ্যের প্রয়োজন। কিন্তু সে তা পাচ্ছে না। এমনকি জরুরি ওষুধও তাকে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আমার বোন অনেক শুকিয়ে গেছে। তার স্বাস্থ্য ভেঙ্গে পড়েছে।
দেশটির সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের বিশেষ প্রতিনিধি ড. রমিজ আলাকবারভ বলেন, ফারাহানাজের পরিবারের মতো আফগানিস্তানের আরও ২ কোটি ৩০ লাখ মানুষ মানবেতর জিবনযাপন করছে। দেশটির ৯৫ শতাংশ মানুষই পর্যাপ্ত খাদ্য পাচ্ছে।
আফগানিস্তানের ভয়াবহ এই পরিস্থিতির অন্যতম কারণ, তালবান কর্তৃক ক্ষমতা দখলের পর গণমাধ্যমে কর্মরত ৬০ শতাংশ নারী চাকরীচ্যুত হয়েছেন। তাদের অনেকেই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন।
আল জাজিরা জানায়, দেশটিতে সংকট এতো বৃদ্ধি পেয়েছে যে অভাবে সন্তানদের বিক্রি করছে অনেক বাবা-মা।
