মিঠাপুকুরে একটি নির্মাণাধীন ব্রিজে ফাটল দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন মিঠাপুকুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
মিঠাপুকুর প্রকৌশল দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার খোড়াগাছ ইউনিয়নের শেষ প্রান্তে মিলবাজার এলাকায় চলতি অর্থবছরে ১৯ লাখ ৯৩ হাজার টাকায় ৬ দশমিক ৯ মিটার দীর্ঘ ও ৪ দশমিক ৮৮ মিটার প্রস্থের ব্রিজটির নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। গত বছরের নভেম্বরে শুরু হয়ে চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে ব্রিজের কাজটি করা হয়েছে। এ কারণে কাজ শেষ হওয়ার আগেই ফাটল দেখা দিয়েছে। বায়ান্নবাজার সওদাগরপাড়া গ্রামের আমজাদ হোসেন বলেন, ব্রিজটি নির্মাণ করতে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। এ কারণে ফাটল দেখা দিয়েছে। আরেক গ্রামবাসী ইদ্রিস আলী বলেন, স্থানীয়দের ম্যানেজ করে কাজটি শেষ করার চেষ্টা করা হচ্ছিল। কিন্তু, প্রতিবাদের মুখে তারা পিছু হটেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, খোড়াগাছ ইউনিয়নের পদাগঞ্জ ও পাইকারের হাট হয়ে মিলব্জর পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা। প্রায় ২০ গ্রামের মানুষ রংপুর সদরে যাওয়া-আসা করতে এ রাস্তাটি ব্যবহার করে। রাস্তাটির তিন মাথা পাইকড়েরতল এলাকায় নির্মাণ হচ্ছে ব্রিজটি। নির্মাণকাজ শেষ হতে না হতেই বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে ফাটল। অনেক ফাটল রাতের আঁধারে সিমেন্ট দিয়ে প্রলেপ দিয়েছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তারপরও কয়েকটি স্থানে দৃশ্যমান রয়েছে ফাটল। স্থানীয় আব্দুল মতিন বলেন, রাতের আঁধারে ব্রিজের কাজ করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নির্মাণাধীন ব্রিজের ফাটলের বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন ঠিকাদার ও স্থানীয় প্রকৌশলী। তাই, বিষয়টি নিয়ে তোড়জোড় নেই কারো। ইতিমধ্যে, ব্রিজের ফাটল পরিদর্শন করেছেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাকির হোসেন সরকার, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। কিন্তু, কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। ফাটল দেখা দেওয়ায় ব্রিজটি ভেঙে নতুন করে নির্মাণকাজ করার জন্য দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। খোড়াগাছ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, এলাকাবাসীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। জনগণের সঙ্গে আমারও দাবি সুষ্ঠুভাবে নতুন করে ব্রিজটি নির্মাণ করা হোক।
উপজেলা প্রকৌশলী আখতারুজ্জামান বলেন, ব্রিজটির সাইডে এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি দেওয়ার সময় ফাটল দেখা দিতে পারে। আমরা বিষয়টি তদারকি করছি। পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
