ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনে এ পর্যন্ত ১৫৩ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। আহত হয়েছে প্রায় ৩০০ শিশু। দেশটির আবাসিক এলাকার বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা নিষিদ্ধ করা হলেও এসবের কোনো তোয়াক্কা না করেই রাশিয়া তার হামলা অব্যাহত রেখেছে। ইউক্রেনের প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয় থেকে শুক্রবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।
রাশিয়ার সেনাদের হামলায় নিহত শিশুদের মধ্যে বেশির ভাগই রাজধানী কিয়েভের। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কিয়েভে ৭৩ শিশু, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় দোনেস্ক-এ ৩৪ এবং ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভে ৪৬ শিশুর প্রাণ গেছে। হতাহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে কারণ চেরনেহিভ এবং মারিউপোল রুশ বাহিনী অবরুদ্ধ করে রাখায় অনেক নিহতের হিসাব নেই। রুশ হামলা অব্যাহত থাকায় ইউক্রেনে হতাহতের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে।
জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা (ইউনিসেফ) জানিয়েছে, যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনের বহু শিশু দেশ ছেড়ে গেছে। দেশটির ৪০ লাখেরও বেশি মানুষ ইউক্রেন ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। সংঘাত না থামলে শরণার্থীর সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি, রোমানিয়া, জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছে বহু ইউক্রেনীয়। আরো অনেকেই আশ্রয় নেওয়ার জন্য অপেক্ষায় রয়েছেন।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে রুশ আগ্রাসনের পর এ পর্যন্ত ৪০ লাখ ১৯ হাজার মানুষ প্রাণ বাঁচাতে প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নেয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ গেছে পোল্যান্ডে। এ সংখ্যা ২৩ লাখের বেশি। জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার সর্বশেষ হিসাবে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিবিসি জানায়, যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের ভেতরে বাস্ত্তচ্যুত হয়েছে অন্তত ৬০ লাখের বেশি মানুষ; অর্থাৎ, সামগ্রিকভাবে ইউক্রেনের জনসংখ্যার অন্তত এক-চতুর্থাংশ যুদ্ধের কারণে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে এটাই সবচেয়ে বড় শরণার্থী সংকট বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।
