স্কুল ছাত্রের হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০২২, ১৩:৫৩

দরিদ্র রিকশাচালক পিতার অভাবের সংসার। তিন বেলা পেটপুরে খাবারই জোটে না। তারপর আবার পড়ালেখার খরচ। তাই স্কুল আর পড়া লেখার ফাঁকে ফাঁকে প্রতি শুক্রবার বাবার রিকশা চালিয়ে যা আয় হতো এ দিয়েই চলতো সাব্বির বিশ্বাসের(১৫)। কিন্তু সেই রিকশাই যেন তার জীবনে কাল হলো।

শনিবার (২ এপ্রিল) সকালে ফরিদপুর সদরের ইশান গোপালপুর-দয়ারামপুর এলাকার একটি ঘাস ক্ষেত থেকে সাব্বির বিশ্বাসের হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সাব্বির ফরিদপুর সদর উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের আছিরুদ্দিন মুন্সিরডাঙ্গী (কালুর বাজার) এলাকার বাসিন্দা। তার পিতার নাম আলমগীর বিশ্বাস। মাতার নাম সাজেদা বেগম। সে পদ্মারচর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র।

এলাকাবাসী, পুলিশ ও পরিবার সুত্রে জানাগেছে, শুক্রবার (১ এপ্রিল) দুপুরে ব্যাটারি চালিত রিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয় সাব্বির। পরে রাতে বাড়িতে না ফেরায় পরিবার-পরিজন বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নিচ্ছিল। আজ শনিবার সকালে একটি ঘাসের ক্ষেতে সাব্বিরের লাশ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে।

সাব্বিরের বাবা আলমগীর বিশ্বাস বলেন, শুক্রবার সকালে আমার সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। সাব্বির বলে- ‘বাবা আমার খাতা-কলম ও স্কুল টাকা দরকার সবমিলিয়ে ৭ থেকে ৮ শত টাকা লাগবে। আজকে স্কুল বন্ধ, আমি রিকশা (ব্যাটারি চালিত) নিয়ে বের হলাম যা আয় করতে পারি আর বাকিটা তুমি দিও।’ তারপর সে রিকশা নিয়ে বেরিয়ে আর ফিরে আসেনি। শুক্রবার বিকাল থেকে গভির রাত পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে খুঁজাখুঁজি করি। শনিবার সকালে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি আরও বলেন, আমার ছেলেও নেই। আমার রিকশাও নেই। আমার সব শেষ।

সাব্বিরের চাচা মো. সোহেল বিশ্বাস বলেন, আমাদের যৌথ পরিবার। সাব্বির পড়ালেখায় খুব মনোযোগী ছিলো। নিজের পড়াশোনার খরচ চালাতে মাঝে মাঝে রিকশা চালাতো। আর এটাই তার জীবনে কাল হলো। ধারনা করা হচ্ছে রিকশা ছিনিয়ে নিতেই তাকে হত্যা করা হয়ছে।

এ বিষয়ে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সুমন রঞ্জন সরকার বলেন, খবর পেয়ে লাশটি উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ওই ব্যাটারি চালিত রিকশাটি ছিনতাই করে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/এমআর