সুনামগঞ্জে চুরির অপবাদে রাতে সালিস, সকালে তরুণের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৬:৪৯

সুনামগঞ্জে চুরির অপবাদে রাতে সালিস হওয়ার পর সকালে এমরান হোসেন (২৩) নামের এক তরুণের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের বেড়াজালী গ্রামের নিজ বাড়ির বারান্দা থেকে বাঁশের আড়ার সঙ্গে রশি প্যাঁচানো অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এমরান ওই গ্রামের আবদুল হাসিমের ছেলে। খবর পেয়ে দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় তার শার্টের পকেট থেকে একটি চিরকুটও উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে আছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। চিঠির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।’

এমরানের ছোট ভাই তুহিন হোসেনের ভাষ্য, প্রায় ১৫ দিন আগে বেড়াজালী বাজার থেকে স্থানীয় বাসিন্দা চান মিয়ার একটি পানির মোটর ও কিছু বৈদ্যুতিক তার চুরি হয়। পরে চান মিয়ার ছেলে আবুল ফজল এমরান ও একই গ্রামের নিলু মিয়ার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ তোলেন।

এ নিয়ে শুক্রবার রাতে বেড়াজালী বাজারে গৌরারং ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক শওকত আলীর কার্যালয়ে সালিস বসে।

এমরানের বাবা আবদুল হাসিমের অভিযোগ, সালিসে উপস্থিত কয়েকজন সাক্ষী চুরির বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান। এরপরও চেয়ারম্যান ও চান মিয়া তার ছেলের ওপর চুরির দায় চাপান। সালিসে এমরানের মা সাহারা বেগম কথা বলতে চাইলে চেয়ারম্যান তাদের হুমকি দেন এবং মারধরের চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

পরে আগামী সোমবারের মধ্যে চুরি যাওয়া পানির মোটর ফেরত দিতে বলা হয়। তা না হলে তাদের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগে পুলিশে দেওয়ার কথা বলা হয় বলে দাবি করেন আবদুল হাসিম।

আবদুল হাসিম বলেন, সালিসে নিজের ও পরিবারের অপমানের ঘটনায় এমরান মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। রাতে পরিবারের সদস্যরা তাকে অনেক বোঝান। পরে সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে ঘুম থেকে উঠে তারা বারান্দায় এমরানের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান।

তিনি বলেন, ‘এমরান আমার সোনার ছেলে। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা চুরির অপবাদ তোলা হয়েছে। চেয়ারম্যানের সালিসে আমাদের সবাইকে অপমান করা হয়েছে। এ জন্যই ছেলে মারা গেছে। আমি বিচার চাই।’

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান শওকত আলী। তিনি বলেন, সালিসে এমরান বা তার পরিবারের কাউকে তিনি হুমকি দেননি। তাদের আত্মীয়ের সঙ্গে টাকাপয়সার লেনদেন নিয়ে পারিবারিক বিরোধ রয়েছে। এমরান ঋণগ্রস্ত ছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।

চেয়ারম্যান বলেন, আগামী সোমবার ওই পারিবারিক বিরোধ নিয়ে আবার বসার কথা ছিল। এর মধ্যে চুরি যাওয়া মোটর পাওয়া গেলে সেদিন সেটি নিয়ে আসতে বলা হয়েছিল। এর বেশি কিছু বলা হয়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, তরুণের মৃত্যুর কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ইত্তেফাক/এমএএম