ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ থেকে রুশ বাহিনী সরে যাওয়ার পর সেখানে বেসামরিক নাগরিক হত্যার আলামত ক্রমশ বাড়ছে। কিয়েভের বাইরে বুচা শহরের রাস্তায় সাংবাদিকরা অন্তত ২০টি লাশ খুঁজে পেয়েছেন। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই হত্যাযজ্ঞ ‘ইচ্ছাকৃত’ বলে অভিযোগ করেছেন। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে রাশিয়া। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।
প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির উপদেষ্টা সের্গেই নিকিফোরব বিবিসি’র সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, কিয়েভের চারপাশের অঞ্চল থেকে পিছু হটার সময় রুশ বাহিনী যুদ্ধাপরাধের আলামত রেখে গিয়ে থাকতে পারে।
কিয়েভের কাছে বুচা, হস্তমেল এবং ইরপিন শহর থেকে যেসব চিত্র পাওয়া যাচ্ছে তা ‘হৃদয়বিদারক’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। নিকিফোরব বলেন, ইউক্রেন বাহিনী শহরগুলোতে গণকবর খুঁজে পেয়েছে। সেখানে লাশগুলোর হাত-পা বাঁধা ছিল। তাদেরকে পিঠে, মাথায় গুলি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এরকম কেন ঘটছে তা বোঝা খুবই কঠিন। এটি পুরোপুরি নির্মমতা। সামরিক দিক থেকে এসব করার কোনও প্রয়োজন ছিল না।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে রাশিয়া। এক বিবৃতিতে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করে, এই ঘটনায় তাদের কোনো হাত নেই। ইউক্রেনের প্ররোচনাতেই এমনটি হয়েছে। শহরটি দখলের সময় কোনো বেসামরিক নিহতের ঘটনা ঘটেনি। গত ৩০ মার্চ বুচা ছেড়েছে রুশ বাহিনী। যেসব ছবি ও ভিডিও ছড়িয়েছে তা ইউক্রেনীয় বাহিনীর কর্তৃক ছড়ানো ভূয়া তথ্য।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেইনে আগ্রাসন শুরুর দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে কিইভের উপকণ্ঠে বুচা নামের ওই শহরে পৌঁছে গিয়েছিল রুশ বাহিনী। সেখানে রাশিয়ার ট্যাংক ও সামরিক বাহনের একটি কলাম ইউক্রেইনীয় বাহিনীর চোরাগোপ্তা হামলায় পড়ে ধ্বংস হয়।
