মানব জাতির রুহানি ইবাদতের মাস হলো রমজানুল মোবারক। শাহরু রমাদান, শাহরুল কুরআন। শাহরু রুহুল কুদুছ। শাহরুর রহমত, শাহরুল মাগফিরাত, শাহরুন নাজাত মিন ইতকিম মিনান নার। মানব জাতির জৈবিক জীবনে দুটি চাহিদা তাদের অস্থির করে তোলে-এক. পেটের চাহিদা, দুই. যৌন চাহিদা। এ দুটি চাহিদা থেকে সুবহে ছাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত বিরত থাকার নামই হলো রোজা। খাবার, পানাহার ও কামাচার থেকে বিরত থাকাটাই হলো রুহ তথা নফছের পবিত্রতা। রমজান মাসে সুবহে ছাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সব ধরনের পানাহার ও কামাচার থেকে বিরত থাকলে বনি আদমের রুহ তথা নফছ পবিত্র হয়ে যায়। এর মাধ্যমে বান্দা মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে সক্ষম হয়। দুনিয়ার জগতে যদি মানব জাতির উক্ত দুই চাহিদা না থাকত, তাহলে বনি আদম হর হালতে মহান আল্লাহর জিকিরে ও ফিকিরে মশগুল থাকত এবং আল্লাহর পিয়ারা হাবিব আকায়ে সরদারে দো জাহা তাজদারে মদিনা আল মুনওয়ারা বিশ্ব নবি হজরত মুহাম্মাদুর রসুলাল্লাহ (স.)-এর ওপর হর হালতে দরুদ শরিফ পাঠ করতে থাকত। সবকিছুই মহান আল্লাহপাক রব্বুল আলামিনের পরীক্ষা। সারা বছর আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগি করে উম্মতে মোহাম্মদি যতটুকু কামাই করে, সে কামাইটা মাহে রমজানের এক মাসেই হাসিল হয়ে যায়। মহান আল্লাহপাক তার অশেষ দয়ায় আমাদের উম্মতে মোহাম্মদিকে মাহে রমজানের মতো বিশাল গনিমতওয়ালা, রহমতওয়ালা, মাগফিরাতওয়ালা, নাজাত দেনেওয়ালা একটা গুরুত্বপূর্ণ মাস দিয়েছেন, যে মাসটি হলো রুহানি ইবাদতের মাস মোবারকময় মাহে রমজান। সে জন্য মহান আল্লাহর অসংখ্য অগণিত শুকরিয়া আদায় করে বলি-আলহামদুলিল্লাহ।
রোগ, শোক, বালা-মুছিবত ইত্যাদি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি পরীক্ষামাত্র। দুনিয়া সৃষ্টির পর থেকে আল্লাহপাক রব্বুল আলামিন যত নবি ও রসুল পাঠিয়েছেন, সব নবি ও রসুলকে আল্লাহপাক পরীক্ষা করেছেন। সব নবি ও রসুল ছিলেন নিষ্পাপ। কেননা, সব নবি ও রসুলের পিঠে মহান আল্লাহপাক প্রদত্ত মহরে নবুওতের সিল ছিল। সুবহানাল্লাহ! ইসমতে আম্বিয়া আলাইহিস সালাতু ওয়াসসালাম, এমনকি বিশ্বনবি হজরত মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ (স.)-এর সব সাহাবি ছিলেন সত্যের মাপকাঠি। আছ সাহাবাতু কুল্লুহুম উদুল। মহান আল্লাহর ওপর তাদের ইমান ছিল ইস্পাতকঠিন মজবুত। এতৎসত্ত্বেও সব নবি ও রসুল এবং সাহাবায়ে কেরামকে মহান আল্লাহর কঠিনতম পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়েছে। আর আমরা বর্তমান যুগের উম্মতে মোহাম্মদিগণ দুর্বল এবং নড়বড়ে ইমানের অধিকারী। কচুপাতার ওপর পানি যেমন নড়বড় করে, ঠিক আমাদের অধিকাংশের ইমান ঐ রকম দুর্বল এবং নড়বড়ে। একমাত্র মহান আল্লাহপাক রব্বুল আলামিনের দয়া ও রহমত ছাড়া আমাদের পার পাওয়াটা মুশকিল।
ইনশাআল্লাহ মাহে রমজানের অসিলায় আমরা সবাই রুহের পবিত্রতা অর্জন করতে সক্ষম হব। আমরা সবাই ফানাফিল্লাহ এবং ফানাফির রসুল (স.), ফানাফিল কুরআন ও ফানাফির রমাদান হয়ে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে চাইব, ইনশাআল্লাহ।
লেখক: অতিথি অনুবাদক, মক্কা আল মোকাররামাহ ও সাবেক খতিব, জাতীয় সংসদ জামে মসজিদ
