নিউজিল্যান্ডের ইনিংসের ৩৯ তম ওভার। প্রথম বলে আউট হলেন মার্টিন গাপটিল। সেঞ্চুরি করা গাপটিল ড্রেসিং রুমে ফেরার পথে ব্যাট উচিয়ে দর্শকদের অভিবাদনের জবাব দিলেন, বাউন্ডারি লাইনের কাছাকাছি যেয়ে একটু থামলেন, ব্যাট দিয়ে হেলমেট দিয়ে তালি দিলেন, মাঠে ঢুকতে থাকা রস টেইলরের সঙ্গে হাত মেলালেন।
স্বভাবজাত ভঙ্গিতেই মাঠে প্রবেশ করলেন রস টেইলর, একটু দৌড়, ব্যাট নিয়ে শ্যাডো করলেন। হালকা স্ট্রেচিং করে উইকেটের দিকে যাত্রা, অবশ্য এটাই শেষ বারের মত। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এরপর যে আর ব্যাট করতে নামবেন না নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের কম আলোচিত এই সুপারস্টার।
রস টেইলরের শেষের শুরুটা হলো এমনই আবেগময়। এরপর ব্যাটিংয়ে নামার পালা। সেটির জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা। গাপটিল ও উইল ইয়াং দ্বিতীয় উইকেটে গড়লেন দুই শতাধিক রানের জুটি। প্রায় ৩৪ ওভারের সেই জুটিতে প্যাড পরে অপেক্ষা টেইলরের। অবশেষে গাপটিলের আউট তাকে সুযোগ করে দিল ৩৯তম ওভারে।
ব্যাট হাতে তিনি নামলেন, শেষবারের মতো। ড্রেসিং রুরে সতীর্থরা আর গোটা মাঠ তখন দাঁড়িয়ে তাকে অভিবাদন জানাচ্ছে করতালিতে। টিভি পর্দায় দেখা গেল গ্যালারিতে থাকা পরিবার-পরিজনদের। মাঠে তাকে ‘গার্ড অব অনার’ দিলেন প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ডসের ক্রিকেটাররা।
মাঠে খুব দীর্ঘস্থায়ী হলো না তার উপস্থিতি। ট্রেডমার্ক সেই স্লগে একটি ছক্কা অবশ্য মারলেন মিড উইকেট দিয়ে। দলে রান বাড়ানোর তাড়ায় স্লগ করতে গিয়েই আউট হয়ে গেলেন ১৬ বলে ১৪ রান করে। সমাপ্তি হলো বর্ণাঢ্য এক অধ্যায়ের। ২০০৬ সালের মার্চে নেপিয়ারে শুরু হয়েছিল যে পথচলা, গৌরবময় নানা বাঁক পেরিয়ে তা সোমবার তা থেমে গেল হ্যামিল্টনে।
গত জানুয়ারিতে টেইলরকে ‘গার্ড অব অনার’ দিয়ে সম্মানিত করেছিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররাও। সেটি ছিল টেস্ট ক্রিকেটে তার শেষ ম্যাচ। এবার নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে চূড়ান্ত বিদায়। এ দিনের পর থেকে রস টেইলরের পরিচয়, ‘সাবেক ক্রিকেটার।’
