রমজান মাসে সাধারণত ইফতারের তালিকায় থাকে খেজুর, পিয়াজি, বেগুনি, ছোলা, মুড়ি ও জিলাপি। এ ছাড়াও থাকে লেবু ও শসাসহ বিভিন্ন ধরনের ফল। কিন্তু রমজানকে কেন্দ্র করে এসব পণ্যের দাম বেড়েছে চার গুণ। বেগুনি, পিয়াজি, ছোলা, জিলাপি, মুড়ি, কাবাবসহ বিভিন্ন ইফতার তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সব উপাদানের দাম বেড়ে যাওয়ায় বেড়েছে ইফতার পণ্যের দাম।
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রমজান সংশ্লিষ্ট বেশির ভাগ পণ্যেরই দাম বেড়েছে। বাজার মনিটরিং ও পণ্যমূল্য তদারকির অভাবে নিত্যপণ্যের বাজার অস্থির হচ্ছে বলে মনে করেন দোকানদাররা। তাদের মতে, স্বাভাবিক সময়ের বাজারের চেয়ে রমজান ঘিরে ক্ষেত্র বিশেষে ইফতার সামগ্রীর দাম বেড়েছে। এছাড়া খেজুর, ফলসহ সব কিছুর দাম বেড়ে গেছে। ইফতারি আইটেমের দাম বেড়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন হোটেল ব্যবসায়ীরা।
আরাফাত নামে এক বেসরকারি এজিও চাকরিজীবী বলেন, নিয়মিত খাওয়ার খরচ নিয়ে যখন হিমশিম খাচ্ছি তখন আমার মতো মানুষের বাইরে থেকে ইফতার কিনে খাওয়ার বিলাসিতা দেখানোর সুযোগ কম। তার পরও প্রয়োজনের তুলনায় কম হলেও ইফতার সামগ্রী কিনতে হচ্ছে। বাজারে প্রতিটি পণ্যই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।
রায়পুর পৌর শহরের থানা মোড়ের জনপ্রিয় খাবারের শাহী হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের মালিক মো. ফিরোজ আলম বলেন, ইফতার তৈরির বিভিন্ন উপাদানের দাম বেড়েছে কয়েক গুণ। যে কারণে ইফতারের বিভিন্ন খাবারের দামও বাড়িয়ে বিক্রি করতে হচ্ছে। অন্যদিকে যখন জিনিসপত্রের মূল্য বৃদ্ধির কারণে এমনিতেই মানুষ বেকায়দায়, তখন দাম বাড়ানো হলে ইফতারের ব্যবসা কতটা জমে উঠবে তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, পিয়াজি, বেগুনি, আলুর চপ যেগুলো গত বছর পাঁচ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে, সেগুলো এবার ৮ থেকে ১০ টাকা করা হচ্ছে, জিলেপি এবং ছোলার দাম বেড়েছে কেজিতে ৩০ টাকা।
পৌরসভার প্যানেল মেয়র আইনুল কবির মনির বলেন, বিগত কয়েক মাস ধরেই ভোগ্যপণ্যের বাজার চড়া। এমন কোনো পণ্য নেই যার দাম বাড়েনি। আমরা কিছুটা আশার আলো দেখছিলাম, এবার রোজার আগ দিয়ে সরকার কিছু পদক্ষেপের পাশাপাশি বাজার মনিটরিং ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়েছিল। ভেবেছিলাম হয়তো নতুন করে আর কোনো পণ্যের দাম বাড়বে না, কিন্তু রোজার আগের দিন দেখা গেল সবকিছু ব্যর্থ করে দিয়ে ব্যবসায়ীরা ঠিকই পণ্যমূল্য আরো বাড়িয়ে দিলেন। আসলে অতি মুনাফার লোভ ব্যবসায়ীদের বেসামাল করে দিয়েছে।
এ বিষয়ে রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন দাশ বলেন, বাজার নিয়মিত তদারকি হচ্ছে। রমজানে তদারকি আরো বাড়ানো হচ্ছে। তবে ভোক্তাদের স্বার্থে বাজারে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এরই মধ্যে মজুতদারদের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
