‘কৌশলগত ঋণের ফাঁদে’ শ্রীলঙ্কা

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২২, ১৯:৫৫

অবশেষে চীনের ঋণ-ফাঁদ কূটনীতিতে পড়ে গেছে শ্রীলঙ্কা। শিক্ষায় সবার তুলনায় এগিয়ে ছিল দেশটি।  ২০০৬ সালে গৃহযুদ্ধের সমাপ্তির পরে শ্রীলঙ্কার মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি ২০১২ সাল পর্যন্ত ঠিকঠাকই ছিল। সে সময় মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৪৩৬ ডলার থেকে বেড়ে হয় ৩ হাজার ৮১৯ ডলার, যা দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ।

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া কলেজ অব উইলিয়াম অ্যান্ড মেরির একটি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন গবেষণা সংস্থা ‘এইডডাটা’র বিশ্লেষণ অনুসারে, পৃথিবীর ১৬৫ দেশের মধ্যে চীনাদের ৮৪৩ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ১৩ হাজার ৪২৭টি চীনা উন্নয়ন প্রকল্প কাজ করছে।’

কিছু বৈদেশিক ঋণ প্রায়ই চীনা সরকারি ব্যালেন্স শিটে বরাবরই উহ্য থাকে। বিদেশী সরকারের সাথে চীনা সরকারের ঋণ দেয়া-নেয়ার পরিবর্তে চীন ঋণগুলো দেয় সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানি, ব্যাংক, যৌথ অথবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে। 

এইডডাটার তথ্যানুসারে, পৃথিবীতে ৪০টি নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশ রয়েছে যেগুলোকে তাদের জিডিপির ১০ শতাংশ ঋণ দেয়া হয়েছে ‘হিডেন ডেট’ হিসেবে। 
জিবুতি, জাম্বিয়া, রিপাবলিক অব কঙ্গো, নাইজার, লাওস, কম্বোডিয়া, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, মঙ্গোলিয়া, মন্টেনেগ্রো, কিরগিজিস্তানের মতো দেশগুলোকে তাদের জিডিপির ২৫ শতাংশের সমপরিমাণ ঋণ দিয়েছে চীন। ঋণের বেশির ভাগই প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) তহবিল থেকে রোড, রেলওয়ে, বন্দর, খনিজসম্পদ উত্তোলন শিল্পে দেয়া হয়েছে।

ইতিমধ্যেই ‘চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড’ প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বেশ কয়েকটি দেশ। চীন-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডর নিয়ে অসন্তোষ দেখা দেয় সে দেশে। চীনের মদতে একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প বাতিল করে দেয় মালয়েশিয়া সরকার। 

দেখা গিয়েছে, যে চীনা প্রকল্পের কোনও লাভ ঋণগ্রহীতারা পাচ্ছে না। বরং তাদের বাণিজ্যিক ঘাটতির মুখে পড়তে হচ্ছে। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ শ্রীলঙ্কা। দেশটির বিদেশি ঋণের পরিমাণ বিপুল আকার ধারণ করেছে। এই ঋণের অর্ধেকেরও বেশি চীন থেকে নেওয়া। গত সাত দশকে সবচেয়ে বড় আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে দ্বীপরাষ্ট্রটি। বিদ্যুতের অভাবে ব্ল্যাক আউট চলছে দেশে। খাবার, ওষুধ অগ্নিমূল্য। এমনকি মিলছে না প্রতিদিনের প্রয়োজনের রান্নার গ্যাস। এহেন পরিস্থিতিতে এবার ড্রাগনের নজর পড়েছে লাতিন আমেরিকায়।

ইত্তেফাক/এএইচপি