রাজধানীর মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম টিপু ও কলেজ শিক্ষার্থী সামিয়া আফরান জামিল প্রীতি হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় শুটার মাসুম মোহাম্মদ আকাশ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মঙ্গলবার (৫ এপ্রিল) সাত দিনের রিমান্ড শেষে মাসুমকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ ইয়াসিন শিকদার। আকাশ স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার অতিরিক্ত মূখ্য মহানগর হাকিম তোফাজ্জল হোসেনের আদালত তার জবানবন্দি রেকর্ড করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে, ২৮ মার্চ আকাশের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
গত ২৪ মার্চ রাতে শাহজাহানপুরের আমতলা মসজিদ এলাকায় মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুলকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ সময় এলোপাতাড়ি গুলিতে রিকশারোহী কলেজছাত্রী সামিয়া আফনান প্রীতি নিহত হন। এছাড়া টিপুর গাড়িচালক মুন্না গুলিবিদ্ধ হন। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের পর ওইদিন রাতেই শাহজাহানপুর থানায় নিহত টিপুর স্ত্রী ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সংরক্ষিত কাউন্সিলর ফারহানা ইসলাম ডলি বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেন। এতে অজ্ঞাতদের আসামি করা হয়।
আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, টিপুকে গুলি করে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন মাসুম। বন্ধু মোল্লা শামীমের মোটরসাইকেলে করে সেদিন ঘটনাস্থলে যান। জাহিদুলকে গুলি করে শামীমের মোটরসাইকেলে করে এলাকা ত্যাগ করেন তিনি।
হত্যার ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র ও মোটরসাইকেল প্রসঙ্গে মাসুম বলেছেন, একজন পরিচিত লোক তাকে অস্ত্র ও মোটরসাইকেল দিয়েছিলেন। ঘটনার পর একটি নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে সেই অস্ত্র ও মোটরসাইকেল ওই ব্যক্তির কাছে জমা দেন তিনি।
আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডে আওয়ামী লীগ নেতা ওমর ফারুকসহ গ্রেপ্তার পাঁচজন এখনো ডিবির হেফাজতে আছেন। অন্যরা হলেন দুবাইয়ে আত্মগোপনকারী মুছার ছোট ভাই আবু সালেহ শিকদার ওরফে শুটার সালেহ, নাসির উদ্দিন ওরফে কিলার নাসির, মোরশেদুল আলম ওরফে কাইল্যা পলাশ ও আবৃত্তিকার আহকাম উল্লাহর ছোট ভাই আরফান উল্লাহ দামাল।
ওমর ফারুকসহ চারজনকে গ্রেপ্তারে পর র্যাব সংবাদ সম্মেলন করে জানায়, ২০১৩ সালের ২৯ জুলাই গুলশানে যুবলীগ দক্ষিণের সাংগাঠনিক সম্পাদক রিয়াজুল হক খান মিলকী হত্যার জের ধরে হত্যার বদলে হত্যা চলছে মতিঝিল এলাকায়। ২০১৬ সালে মতিঝিল এজিবি কলোনীতে যুবলীগ কর্মী রিজভী হাসান বাবু ওরফে বোচা বাবুকে মিলকী গ্রুপের সন্ত্রাসীরা গুলি করে হত্যা করে। ওই মামলায় ওমর ফারুক, নাছির ও কাইল্যা পলাশসহ ৭/৮ জন চার্জশিটভূক্ত আসামী। এছাড়া শীর্ষ সন্ত্রাসীদের অপরাধজগতের নিয়ন্ত্রণ, মতিঝিল এলাকায় চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, স্কুল-কলেজে ভর্তি-বাণিজ্য, কাঁচাবাজারসহ বিভিন্ন বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দের জেরে টিপুকে হত্যা করা হয়।
টিপুর ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে দুবাইয়ে আত্মগোপনকারী ঢাকার অপরাধজগতের অন্যতম নিয়ন্ত্রক জিসানের সঙ্গে নাছিরের বড় ভাই মুছা পরিকল্পনা করেন যে টিপুকে সরিয়ে ফেলার জন্য। এই পরিকল্পনার অংশ হিসাবে ১২ মার্চ মুছা ঢাকা ছেড়ে দুবাইয়ে জিসানের সঙ্গে দেখা করেন। সেখান থেকেই পরিকল্পনা করা হয় কিলিং মিশনের। জিসান গ্রুপের শুটারদের নিয়োগ করে ২৪ মার্চ রাত সোয়া ১০ টার দিকে শাহজাহানপুরে খিলগাঁও ফ্লাইওভারের নিচে টিপুকে বহন করা মাইক্রোবাস লক্ষ্য করে মাসুম গুলি ছুঁড়ে কিলিং মিশন শেষ করে।
