সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ভুট্টা ও রসুনের চাষ করে খুব ভালো ফলন পেয়েছেন চাষিরা। বিশেষ করে ভালো দাম পেয়ে মুখে খুশির হাসি ফুটেছে ভুট্টা চাষিদের। কিন্তু কম দামের কারণে মাথায় হাত উঠেছে রসুন চাষিদের। চাহিদা থাকায় ভুট্টা খেত থেকেই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। অথচ রসুন বিক্রি করতে না পেরে হাট থেকে ফেরত আনা হচ্ছে বাড়িতে।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছেন, তাড়াশ উপজেলায় ১ হাজার ২২৫ হেক্টর খেতে ভুট্টার চাষ হয়েছে। রসুনের চাষ হয়েছে ৪৭৫ হেক্টর খেতে। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া ভুট্টা ও রসুন চাষের জন্য ভালো ছিল। যে কারণে রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ হয়নি। ফলনও ভালো হয়েছে।
চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে খেত থেকে এক মণ ভুট্টা বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার টাকায়। এক মণ রসুনের দাম মান ভেদে ৪০০ থেকে ১ হাজার টাকা অবদি। রসুনের চাষ করতে প্রতি বিঘা খেতে ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ভুট্টার চাষ করতে খরচ হয়েছে বিঘায় মাত্র ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা।
উপজেলার সগুনা ইউনিয়নের নওখাদা গ্রামের রহিদুল প্রামানিক ও ঠান্ডু মিঞা নামে দুইজন ভুট্টা চাষি বলেন, আমরা হাইব্রিড জাতের ভুট্টার চাষ করেছিলাম আড়াই বিঘা করে খেতে। ফলন হয়েছে প্রতি বিঘায় ৫৫ মণ। বাজারে ভুট্টার ব্যাপক চাহিদা আছে।
বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকার ও স্থানীয় মৌসুমি ব্যবসায়িরা এসে খেত থেকেই ভুট্টা কিনে নিচ্ছেন ১ হাজার টাকা মণ। এ বছর ভুট্টার বাম্পার ফলন হয়েছে। আমরা বেশ লাভের মুখ দেখছি ভুট্টা বেচে।
চাচকৈর হাটের পাইকার আতিকুর রহমান ও নওখাদা গ্রামের মৌসুমি ব্যবসায়ি গোলজার হোসেন বলেন, আমরা ১ হাজার টাকা মণ ভুট্টা কিনি খেত থেকে। এরপর সামান্য পরিচর্যা করে তা ১ হাজার ৩০০ টাকা মণ হাটে বিক্রি করি ।
এদিকে নাদোসৈয়দপুর গ্রামের রসুন চাষি ফরিদুল ইসলাম, রবিউল করিম, আব্দুল আলিম ও সাজেদুল প্রামানিক বলেন, আমরা লাভের আসায় রসুনের চাষ করে উৎপাদন খরচ নিয়ে শঙ্কায় পড়েছি। অনেকে হাটে রসুন না বেচে বাড়িতে রেখে দিচ্ছেন খরচের টাকা তোলার আশায়। যদিও এ বছরও রসুনের বাম্পার ফলন হয়েছে।
ভুক্তভোগী রসুন চাষিরা আরো বলেন, এক বিঘা জমিতে ৩০ থেকে ৩৫ মণ রসুন হয়েছে। এর মধ্যে বাছাই করে ভালো মানের রসুন হয় ১৫ মণ। মধ্যম মানের পাওয়া যায় ১০ মণ। বাকিগুলো ছোট রসুন। বর্তমান বাজার দরে সেগুলো রসুন ৪০০ থেকে সর্বচ্চ ১ হাজার টাকা মণ বেচা-কেনা হচ্ছে। বিগত বছরেও তাদের রসুনে লোকশান হয়েছে।
(৫ এপ্রিল) মঙ্গলবার সরজমিনে দেখা যায়, নওখাদা গ্রামের ভুট্টা চাষিরা গাছ থেকে মোচা ভেঙে আনন্দে বস্তায় ভরছেন। পক্ষান্তরে নাদোসৈয়দপুর গ্রামের রসুন চাষিরা খেত থেকে রসুন নিয়ে মন খারাপ করে বাড়ি ফিরছেন। অনেকে খেতের মধ্যেই তোলা রসুন ফেলে রেখেছেন।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লুৎফুননাহার লুনা দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, দাম কম হওয়ার কারণে রসুন চাষিরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বাড়িতে রসুন রেখে বাজার দর দেখে তারপর বিক্রির পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
