সামনে বৈশাখ, ব্যস্ত সময় কাটছে নিকলীর মৃৎশিল্পীদের

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২২, ১৫:০৯

মাত্র এক সপ্তাহ পরই পহেলা বৈশাখ, মাটির তৈরি তৈজসপত্রের টুং-টাং শব্দ। হাতের কারুকার্যে কাদামাটি দিয়ে তৈরি বাহারি সব পণ্য। এসব তৈরির পর রোদে শুকানো, আগুনে পোড়ানো, রং করা ও প্যাকেট করে নির্ধারিত স্থানের বৈশাখী মেলায় নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি। কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার পালপাড়া এলাকার বর্তমান চিত্র এমনই। 

নিকলীর মৃৎশিল্পীদের সব ব্যস্ততা এখন পহেলা বৈশাখ ঘিরে। শিল্পী হরিদাস পাল জানান, গত দুই বছর কোভিট-১৯ জন্য কোন বৈশাখী মেলা না হওয়ায়, তার খুব হতাশায় ছিল। এ বছর কোন বিধি নিষেধ না থাকায় তারা খুব খুশি।

এ পালপাড়ার ঠাকুরধন পাল, প্রতীপ পাল, রিপন পাল, পরিতোষ পাল, রবি দাস পাল, কাজল পাল, বিশ্ব পাল, রবিন্দ্র পাল, হরিদাস পাল, বলাই পাল, জীবন পাল, ক্ষিতিশ পাল, রঞ্জিত পাল ও সুভাষ পালের হাতের ছোঁয়ায় কাদামাটি দিয়ে তৈরি হয় মৃৎশিল্প।



তাদের মাটির তৈরি শৈল্পিকতায় অনেক আগেই জয় করে নিয়েছে ভৈরব, কিশোরগঞ্জ, হোসেনপুর, কটিয়াদী ও বাজিতপুর উপজেলার বৈশাখী মেলা। তাই বৈশাখকে ঘিরে ওইসব উপজেলার মেলার আয়োজন কমিটি থেকে তাগিদ আছে তাদের জিনিসপত্র নিয়ে মেলায় যাওয়ার জন্য। সে কারণে ওইসব উপজেলার মেলার চাহিদা মেটাতে প্রতি বছরের মত এ বছরও একই ধরনের ব্যস্ততা তাদের। প্রতিবছরই মৃৎ শিল্পীরা পণ্যে ডিজাইনে পরিবর্তন করেন।

পালপাড়ার কয়েকজন শিল্পী জানান, গত চার বছরের তুলনায় এ বছর সবগুলো মাটির পণ্যে নতুনত্ব এসেছে। এ বছর ডিনার সেটে থাকছে প্লেট, গ্লাস, মগ, কারিবল, জগ, লবণবাটি, সানকি (বাসন), কাপ-পিরিচ ও তরকারির বাটি। অন্যান্য পণ্যের মধ্যে হাতি, ঘোড়া, গরু, হরিণ, সিংহ, বাঘ, ভালুক, জেব্রা, হাঁস, মুরগি, ছোট শিশুদের খেলার হাঁড়িপাতিল, নতুন ডিজাইনে কয়েলদানি, মোমদানি, ফুলদানি, ঘটি-বাটি, আম, কাঁঠাল, আনারস, পেঁপে, কামরাঙ্গা, আতাফল, কলস, বাঙ্গী। যা মেলার ক্রেতাদের আলাদাভাবে আকৃষ্ট করবে। কোন রাসায়নিক পদার্থের ছোঁয়া ছাড়াই তৈরি করা হয়েছে মাটির এসব পণ্য। রং করা হয় প্রাকৃতিক উপায়ে পাওয়া গাছের কষ দিয়ে।

বুধবার (৬এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা গেছে, শেষ সময়ের মৃৎ শিল্পীরা বেশ ব্যস্ততায় দৌড়-ঝাঁপ করছেন। মেলা ঘনিয়ে আসছে তাই কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য পরিবারের সব সদস্যসহ বাড়তি শ্রমিক নিয়োগ করা হয়েছে। 

পালপাড়ার হরিদাস পাল জানান, এক সময় নিকলীর পালপাড়ার মৃৎশিল্পীরা পুতুল, কলস, ছোট বাচ্চাদের খেলনা, রসের হাঁড়িসহ গ্রামবাংলার ঘরে ব্যবহারের উপযোগী নানা ধরনের মাটির সামগ্রী তৈরি করতেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ধীরে ধীরে তারা মাটি দিয়ে অন্যান্য পণ্যও তৈরি শুরু করেন। 

সুভাষ পাল জানান, প্রতিবছর বৈশাখী মেলা করে নিকলীর পালপাড়ার অর্ধশতাধিক পরিবারের লোকজনের আর্থিক সচ্ছলতা এসেছে। তাদের সন্তানেরা স্কুল-কলেজে পড়াশোনা করছে, সংসারের অভাব দূর হয়েছে। দেশে আধুনিক মানের সিরামিকের পণ্যকে চ্যালেঞ্জ করে এখনো গ্রামবাংলার প্রতিটি ঘরে মাটির শিল্প টিকে রয়েছে। নিকলীর মৃৎশিল্পীরা খুব কৌশলী হওয়ায় তারা এ পেশাকে টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছেন।  
 

ইত্তেফাক/এসজেড