বেবুলের ছবিতে নিস্তব্ধতার গান 

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২২, ২১:৪৬

গোলাম ফারুক বেবুল ছাত্রাবস্থায় রিয়েলিস্টিক বা বাস্তবধারার কাজ করলেও নিরীক্ষাধর্মী কাজের প্রতি ছিল তার গভীর অনুরাগ। ফলে পরবর্তী জীবনে বিমূর্তধারার শিল্পরচনায় আগ্রহী হয়ে ওঠেন। তবে তার ছবি পুরোপুরি বিমূর্ত নয়; মূর্ত-বিমূর্তের মাঝামাঝি সমবিমূর্ত। তিনি তার ছবিতে প্রকৃতির নানা ফর্ম দেন নিজের মতো করে। শিল্পী গোলাম ফারুক বেবুলের নানা মাত্রার ছবি নিয়ে গুলশানের এজ গ্যালারিতে শুরু হয়েছে ‘দি সাউন্ড অফ সাইলেন্স’ শীর্ষক চিত্রকর্ম প্রদর্শনী। 

গোলাম ফারুক ২০২০ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি পৃথিবী ছেড়ে চলে যান না ফেরার দেশে, তবে নতুন প্রজন্মের জন্য রেখে গেছেন তার অমর সৃষ্টিসমূহ।

চারুকলা অনুষদের চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের অধ্যাপক প্রয়াত শিল্পী গোলাম ফারুকের ছবির জগৎ তৈরি হয়েছে তার চারপাশের পরিবেশ-প্রকৃতি থেকে। জীবন চলার পথে নানা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা আর প্রকৃতির নানা উপাদান ভর করে তার ছবির মধ্যে। শিল্পী বেবুলের কাজ খুব স্বতঃস্ফূর্তভাবে ক্যানভাসে উঠে আসে।

তার ছবি যেন বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি, যার রূপ দিয়েছেন শুধু নিজস্ব রঙে-ঢঙে আর আঙ্গিকের ভিন্নতায়। নৈসর্গিক বৈচিত্র্য, খেটে-খাওয়া সাধারণ মানুষের জীবনযুদ্ধ আবার কখনও বা স্মৃতির ভেলায় ভর করে শৈশবে অবগাহন, ভঙ্গুর ঘর-বাড়ি, পলেস্তারা খসে পড়া লাল ইট, খড়-কুটো, নদী-নৌকা আর এ সবই মূর্ত-বিমূর্তের মাঝামাঝি সমবিমূর্ত ধাঁচে চিত্রভাষা নির্মাণ করেছেন গোলাম ফারুক।

তিনি এক আলোচনায় নিজের কাজ সম্পর্কে বলেছিলেন, খুব বেশি পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বিষয় নির্বাচন করে কাজ করতে আমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি না। কাজ করতে বসলে ভেতর থেকে যে ফর্ম ও ভাবনা-অনুভূতি -আবেগ এসে আমার সত্তায় ভর করে সে সব মিলিয়ে ছবির পট তৈরি করি। স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভেতর থেকে যে ফর্ম ও রেখা আমাকে আন্দোলিত করে আমি তাই প্রকাশ করতে চাই। কখনও হয় কখনও হয় না। এভাবেই চলছে। চলার পথে প্রকৃতিকে অবলোকন করি নিজের মতো করে। ছবি আঁকার ক্ষেত্রে নেটাই আমাকে পথ দেখায়।

তিনি ছবি রচনা করেছেন নানা মাধ্যমে নানা আঙ্গিকে। প্রিন্টমেকিংয়ের নানা মাধ্যম-উডকাট, উডএনগ্রেভিং, এচিং, অ্যাকুয়াটিন্ট, লিথোগ্রাফির মতো টেকনিক নির্ভর মাধ্যমে; কখনও জলরং, তেলরং, গোয়াশ, কালি-তুলি এবং সবশেষে অ্যাক্রেলিকের ছোঁয়ায় শিল্পরচনা করেছেন। প্রদর্শনীতে ৫১টি চিত্রকর্ম স্থান পেয়েছে। চলবে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত।

ইত্তেফাক/এএএম