পশ্চিমা বন্ধু দেশগুলোর কাছে থেকে আরও অস্ত্র ও মস্কোর বিরুদ্ধে বড় নিষেধাজ্ঞার আর্জি জানিয়েছে কিয়েভ। তা না হলে পূর্ব ইউক্রেনে রুশ হামলার মাত্রা ন্যাটো সদস্যদের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কথা মনে করিয়ে দেবে। এমন মন্তব্য করেছেন ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্রো কুলেবা। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (৭ এপ্রিল) বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ন্যাটোর সদস্য রাষ্ট্রসমূহের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকে কুলেবা এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের অস্ত্র প্রয়োজন। আপনারা আমাদের দ্রুত সাহায্য করুন না হলে অনেক লোক মারা যাবে।’
বৃহস্পতিবার ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে ইউক্রেনের উদ্দেশ্যর কথা খুব ভালো ভাবেই বুঝিয়েছেন কুবেলা। তিনি তিনটি শব্দে তার চাহিদা তুলে ধরেছেন।
কুবেলা বলেন, অস্ত্র, অস্ত্র, অস্ত্র।
বিবিসি জানায়, ইউক্রেনে চলমান রুশ আগ্রাসনের কারণে দেশটিতে চরম আকারে অস্ত্রের চাহিদা দেখা দিয়েছে। যার কারণে কুবেলা ন্যাটোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ইউক্রেনে আরও অস্ত্র সরবরাহ করে মানুষের জীবন বাঁচানোর আহ্বান জানান।
কুবেলা বলেন, অস্ত্রের টেকসই এবং পর্যাপ্ত সরবরাহ ইউক্রেনীয় বিজয় আনতে পারে। তা না হলে বড় আত্মত্যাগ দিতে হবে আমাদের।
ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চল ডনবাসে (দনেতস্ক ও লুহানস্ক) শিগগিরই রুশ বাহিনীর সঙ্গে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর তীব্র লড়াই শুরু হবে উল্লেখ করে ন্যাটোর সদস্যরাষ্ট্রগুলোর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ডনবাসে শিগগিরই বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু হতে যাচ্ছে। হাজার হাজার ট্যাংক, সাঁজোয় যান, যুদ্ধবিমান ও গোলাবারুদ তখন ব্যবহার হবে এবং সেই যুদ্ধের মাত্রা এত ব্যাপক হবে, যে আপনাদের মনে পড়বে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন ভয়াবহ পরিস্থিতির ইতিহাস।’
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় পশ্চিমা দেশগুলোর এই সামরিক জোটের মহাসচিব জেনস স্টলটেনবার্গ বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ইতোমধ্যে ন্যাটো ইউক্রেনকে সমর্থন ও অস্ত্র সহায়তা দিয়েছে, এবং ভবিষ্যতেও এই সহায়তা অব্যাহত রাখা হবে।’
