যশোরের চৌগাছা উপজেলায় চাপাতি ও হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে দুই ভাইকে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষ। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন। বৃহস্পতিবার (৭ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১১ টার দিকে উপজেলার টেঙ্গরপুর গ্রামে সর্দার ব্রিকস এলাকার খাঁ পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহতরা হলেন-টেঙ্গরপুর খাঁ পাড়ার মৃত আব্দুর রহমানের বড় ছেলে আয়ুব হোসেন (৬০) ও মেজো ছেলে ইউনুচ আলী (৫৫)। এ ঘটনায় নিহত আয়ুব আলীর ছেলে আসাদুজ্জামান খান রনি গুরুতর আহত হয়েছেন।
রাতেই অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় জড়িত চারজনকে আটক করেছে চৌগাছা থানা পুলিশ। আটকরা হলেন-মৃত আবজেল হোসেন ছেলে বিপুল ও মুকুল, বিপুলের স্ত্রী বিলকিচ খাতুন এবং বিপুলের মা রিজিয়া বেগম।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল কদর ও পুলিশ জানায়, ক্ষেতে কাজ করা দিনমজুর ঠিক করা নিয়ে এ ঘটনা ঘটেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, নিহত আয়ুব আলীর ক্ষেত-খামারে কাজ করতো হামলাকারীরা। ঘটনার দিন রাত ১০ টার দিকে সরদার ব্রিকসের পাশে একটি চায়ের দোকানে বসে আয়ুব আলী একই এলাকার মৃত আবজেল হোসেনের ছেলে বিপুলের সঙ্গে কথা বলছিল। এক পর্যায়ে বিতর্ক জড়িয়ে পড়ে আয়ুব অলী ও দিনমজুর বিপুল হোসেন। এতে বিপুল আয়ুব আলীকে চড় থাপ্পড় মারে। আয়ুব আলী বড়িতে গিয়ে তার ছেলে আসাদুজ্জামান রনি ও ভাই ইউনুস আলীকে বিষয়টি জানায়। পরে আয়ুব আলীকে সঙ্গে নিয়ে ছেলে রনি ও ভাই ইউনুচ আলী বিষয়টির প্রতিবাদ করতে যায়। এতে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে বিপুল হোসেন ও তার ভাই বিল্লাল এবং মুকুল ধারাল চাপাতি ও হাসুয়া দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপ দিতে থাকে। এতে আয়ুব আলী, ইউনুস আলী ও আয়ুব আলীর ছেলে আসাদুজ্জামান রনি গুরুতর আহত হন। পরে আহতদের উদ্ধার করে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্য চিকিৎসক আয়ুব ও ইউনুস আলীকে মৃত ঘোষণা করেন। রনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে যশোর জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করে। সেখানে তার অবস্থা অবনতি হলে তাকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রনির স্বজনরা।
এদিকে এ ঘটনার পরপরই হামলাকারীরা পরিবারের সব সদস্য নিয়ে পালিয়ে যায়। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
চৌগাছা থানার ওসি সাইফুল ইসলাম সবুজ আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
