ফ্রান্সে নির্বাচন: প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌড়ে কারা এগিয়ে

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০২২, ০৯:২৯

ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন রবিবার (১০ এপ্রিল)। আগামী পাঁচ বছরের জন্য ভোটাররা তাদের এই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করবেন। তবে নির্বাচনটি দুই ধাপে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রথম ধাপে যদি এক জন প্রার্থী ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পান, তাহলে যে দুজন প্রার্থী সবচেয়ে বেশি ভোট পাবেন তারা পরবর্তী ধাপে ভোটে অংশ নেবেন। দ্বিতীয় রাউন্ডের ভোট ২৪ এপ্রিল। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে লড়াই করছেন। নির্বাচনে মোট প্রার্থী ১২ জন। তাদের মধ্যে আট জন পুরুষ এবং চার জন নারী। প্রধান ছয় জন প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে তিন জন দক্ষিণপন্থী এবং দুই জন বামপন্থী ফরাসি রাজনীতিক।

যারা প্রার্থী হয়েছেন: 

ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁকে দেখা হয় একজন মধ্যপন্থী রাজনীতিক হিসেবে। তিনি রিপাবলিক অন দ্য মুভ পার্টির প্রতিনিধিত্ব করছেন। তার প্রতি দক্ষিণ ও বাম উভয় শিবিরের ভোটারদের সমর্থন রয়েছে। মারিন লা পেন এবং এরিক জিম্যো তারা দুই জনেই অতি-দক্ষিণপন্থী। তাদের মধ্যে জিম্যোকে দেখা হয় সবচেয়ে বেশি কট্টরপন্থী হিসেবে। ভ্যালেরি পেক্রেস দক্ষিণপন্থী রিপাবলিকানদের প্রার্থী হয়েছেন। জ্যঁ-লুক মেলেশঁ নির্বাচন করছেন অতি-বামপন্থী রাজনৈতিক দল ফ্রান্স আনবাউড থেকে এবং ইয়ানিক জাদো গ্রিন পার্টি থেকে প্রার্থী হয়েছেন। পর্যায়ক্রমে বেশ কিছু বড় ধরনের ধাক্কা খাওয়ার পর ফ্রান্সের ঐতিহ্যবাহী বাম রাজনৈতিক দলগুলো এখন আর আলোচনায় নেই। সোশ্যালিস্ট পার্টির ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ ২০১২ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু তার পর থেকে দলটির প্রতি সমর্থন কমে গেছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বাম শিবিরের এই বিভাজনের কারণে ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ লাভবান হতে পারেন, যদিও ডানপন্থীরা অভিযোগ করছেন যে ম্যাক্রোঁ তাদের নীতি অনুসরণ করছেন। ইউক্রেনের যুদ্ধ নির্বাচনি প্রচারণায় বড় ধরনের জায়গা দখল করে নিয়েছে। তবে ভোটারদের কাছে প্রধান ইস্যু জীবন নির্বাহের খরচ বেড়ে যাওয়া।

কীভাবে কাজ করে নির্বাচন ব্যবস্থা: ধারণা করা হচ্ছে, দুই দফায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ১৪ দিনের ব্যবধানে। প্রথম দফার নির্বাচনে কেউই ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পাবেন না বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই ভোট শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় দফায় যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে যিনি নির্বাচিত হবেন তিনিই আগামী ১৩ মে ফ্রান্সের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

জনমত জরিপ কী বলছে: গত ছয় মাস ধরে যেসব সমীক্ষা চালানো হচ্ছে তাতে এগিয়ে আছেন ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের পর তিনি আরো এগিয়ে যান কিন্তু পরে অন্য প্রার্থীদের সঙ্গে তার ব্যবধান কমতে থাকে। বাকি প্রার্থীদের তুলনায় বেশ ভালোভাবেই এগিয়ে আছেন মারিন লা পেন। অন্যদিকে অতি-দক্ষিণপন্থী এরিক জিম্যোর প্রতি সমর্থন কমে যেতে থাকে। জিম্যো একবার বলেছিলেন যে তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে শ্রদ্ধা করেন।

ইত্তেফাক/এএইচপি