জাতিসংঘের প্রশিক্ষণে নেপাল যাচ্ছেন হাবিপ্রবি শিক্ষার্থী নিশাত

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০২২, ১৯:১২

জাতিসংঘের স্ক্যাপের আয়োজনে নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে নেপালের রাজধানী কাঠমুন্ডুতে চলছে 'গ্লোবাল নেটওয়ার্কিং অ্যান্ড ডিজিটাল মার্কেটিং' ট্রেনিং কার্যক্রম। যেখানে ১০ টি দেশের মোট ৭০ জন তরুণ নারী উদ্যোক্তা অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছেন দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবির) অর্থনীতি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নিশাত আনজুম।

জাতিসংঘের ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কমিশন ফর এশিয়া অ্যান্ড দ্যা প্যাসিফিকের (স্ক্যাপ)-এর অর্থায়নে পাঁচ দিনের এই ট্রেনিং কার্যক্রমে অংশ নেয়া প্রত্যেক নারী উদ্যোক্তাকে ৯০০ ডলার করে সম্মানী দেয়া হবে।

ছোটবেলা থেকেই আঁকাআঁকির শখ ছিলো নিশাতের এবং একটি সময়ে নিজের জামা নিজে ডিজাইন করে পরতেন। মাটি, কাঠ, পুঁথি আর রং দিয়ে নিজের জন্য গহনা তৈরি করতেন।

নিশাত বলেন, ২০১৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে প্রবেশের পর আমার বানানো জিনিসগুলো অনেকেরই পছন্দ হতে লাগলো। আর আমার কাছে বানিয়ে নিতে চাইতো। এখান থেকেই মাথায় আসে আমার রংতুলির এই শখটাকে একটি উদ্যোগে রূপ দেয়ার। উদ্যোগ হিসেবে শুরু করেছিলাম কাঠের বেসের উপর পেইন্টিং করা গহনা দিয়ে। তারপর একে একে মেটালের গহনা, পাটের গহনা, কাপড়ে হ্যান্ডপেইন্ট, যেমন কুর্তি, ব্যাগ, পাঞ্জাবি, বেবি ড্রেস, কুশন কভার তৈরি করেছি।

উদ্যোক্তা হিসেবে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে ট্রেনিংয়ের সুযোগের অনুভূতি জানতে চাইলে নিশাত বলেন, অনেক ভালো লাগছে। আমি কাজের চেয়েও নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার দিকে বেশি মনোযোগ দিয়েছিলাম। বর্তমানে জাতিসংঘের স্ক্যাপ আমাকে সেই সুযোগ করে দিয়েছে। তারা আমাকে এবং আমার পণ্যকে গ্লোবাল নেটওয়ার্কিং এর মাধ্যমে বিশ্বের ১০টি দেশের নাগরিকের সামনে তুলে ধরার সুযোগ করে দিয়েছে, আমি সত্যিই দারুণ উচ্ছ্বসিত।'

ভবিষ্যতে স্টার্টআপ নিয়ে ভাবছেন নিশাত। নিশাত জানান, পাটজাত পণ্য আমাদের দেশের ঐতিহ্যবাহী এবং এটি বেশ পরিবেশবান্ধব। তাই জুট কটন, জুট ফেব্রিক নিয়ে ভবিষ্যতে কাজ করার ইচ্ছা আছে।

ইত্তেফাক/এআই