রংপুরের শ্যামপুর চিনিকল বন্ধ থাকায় আখ পরিবহনের গাড়িসহ মেশিনারিজ ও বিভিন্ন সামগ্রী নষ্ট হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, চিনিকলের যন্ত্রপাতি ও আখ পরিবহনে ব্যবহৃত ট্রাক্টরগুলোও বিকল হয়ে পড়ছে। সুগার মিল এলাকায় দেখা গেছে, এক সময়ের প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর চিনিকল এলাকাটিতে এখন সুনসান নীরবতা। দাপ্তরিক কার্যক্রম চললেও নেই আগের সেই ব্যস্ততা। বেশির ভাগ দপ্তরে তালা ঝুলছে।
চিনিকলের কারখানা বিভাগের জুনিয়র ইলেকট্রিশিয়ান ও এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সহসভাপতি আব্দুস সাত্তার বলেন, সরকার দেশের ১৫টি চিনিকলের মধ্যে ছয়টি চিনিকলে মাড়াই বন্ধ রেখেছে। আমাদের বকেয়া বেতন-ভাতার কোনো সুরাহা হয়নি। আমাদের অবস্থা কাহিল হয়ে পড়েছে।
শ্যামপুর সুগারমিল কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০০ সালের পর থেকে টানা লোকসানের মুখে পড়ে। ব্যাংক ঋণ, ঋণের সুদ ও শ্রমিক-কর্মচারীদের প্রভিডেন্ট ফান্ডসহ অন্যান্য খাত মিলে শেষ পর্যন্ত লোকসান বেড়ে হয় ৫শত ৫ কোটি টাকা। এ পরিস্থিতিতে শিল্প, বাণিজ্য, অর্থ ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি মিলটির মাড়াই কার্যক্রম বন্ধের সুপারিশ করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২০-২১ মাড়াই মৌসুমে মিলের কার্যক্রম বন্ধ করে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন। শ্যামপুর সুগার মিল শ্রমিক-কর্মচারী এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন ও আখচাষি কল্যাণ সমিতি আন্দোলনে মাঠে নামে। স্মারকলিপি দেওয়া হয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে। কিন্তু ফল মেলেনি। শেষ পর্যন্ত বন্ধ হয়ে যায় মিলটি। সেই থেকে মিল এলাকায় বন্ধ হয় আখ চাষ। আখ চাষের জমিগুলোতে কৃষকরা এখন অন্যান্য ফসল চাষ করছেন।
চিনিকল এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সদস্য ও চিনিকলের অফিস সহায়ক আমিনুল ইসলাম বলেন, শ্যামপুর সুগার মিলটি বন্ধ থাকায় গত বছরের জুন মাস থেকে বেতন বন্ধ। এর মধ্যে গত জানুয়ারি মাসের বেতন পেলেও বাকি আট মাসের বেতন এখনো পাইনি। এ অবস্থায় পরিবার-পরিজন নিয়ে কষ্টে আছি।
সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কৃষিবিদ মো. আহসান হাবিব বলেন, বন্ধ থাকায় মিলটির যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। আখ পরিবহনের কাজে নিয়োজিত ট্রাক্টরগুলোও পড়ে থাকায় নষ্ট হচ্ছে। কৃষিনির্ভর উত্তরাঞ্চলের অন্যতম একটি ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান ছিল শ্যামপুর সুগারমিল। এর সঙ্গে জড়িত কয়েক হাজার পরিবার। কিন্তু মিলটি বন্ধ হওয়ায় শ্রমিকসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কষ্টে দিন পার করছেন।
