মধুখালীতে পেঁয়াজের দর পতনে দিশেহারা কৃষক

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০২২, ১৫:০৪

মধুখালী উপজেলার বিভিন্ন হাটে পেঁয়াজের ব্যাপক আমদানি হওয়ায় এবার পাইকারি ১২-১৭ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে। উপজেলার মধুখালী সদর সবচেয়ে বড় বাজার শুক্রবার ও সোমবার দুইদিন হাট ছাড়াও প্রতিদিন পেঁয়াজের হাট মেলে। 

এ হাটে উপজেলার বাগাট, কোরকদী, মেগচামী, বামুন্দী, জাহাপুর, বোয়ালিয়া, কামালদিয়া সহ বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে পেঁয়াজ চাষিরা হাটে পেঁয়াজ নিয়ে উপস্থিত হন। শুক্রবার ও সোমবার পেঁয়াজের আমদানি হয় অনেক বেশি। পেঁয়াজের উপস্থিতির কারণে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পেঁয়াজের দরপতনে কৃষক পেঁয়াজ নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

মৌসুমে প্রতি হাটে মধুখালী থেকে ২৫ থেকে ৩০ জন আড়ৎদারের ঘর থেকে প্রায় ৯০ হাজার মণ পেঁয়াজ রাজধানী ঢাকা, বরিশাল, খুলনাসহ বিভিন্ন জেলার ব্যাপারীরা খরিদ করে নিয়ে যায়। প্রতি মণ পেঁয়াজ ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত পাইকাররা কিনছেন। যা খুচরা বাজারে ১৮ থেকে ২৫ টাকা দরে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। 

বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করতে আসা একাধিক কৃষকেরা বলেন, যে দামে বিক্রি করছি তাতে আমাদের কৃষি কাজ করে জীবন চালানো কষ্টকর। যেখানে মণপ্রতি খরচ করেছি ১হাজার থেকে ১১‘শ টাকা তার কিছুই পাচ্ছি না। বেশি দাম পাওয়ার আশায় অনেক কৃষক তাদের পেঁয়াজ নিয়ে বাড়ি ফিরতে দেখা যায়।

চরবাগাট গ্রামের কৃষক মো. মাসুদ মৃধা বলেন, কৃষক পেঁয়াজের দাম পায়না। গতবছর পেঁয়াজে প্রায় ৫০হাজার টাকা লোকসান হয়। এ বছর আশা করে পেঁয়াজ চাষ করি এবারও লোকসানের মুখে পরতে হচ্ছে। তিনি জানান, প্রতি শতাংশ জমিতে প্রায় ১৮০০ টাকা খরচ হয়েছে। প্রতি শতাংশে পেঁয়াজ উৎপাদন হয়  দুই মণ। বাজারে বর্তমান দামে প্রায় ৪‘শ টাকা লোকসান হবে।   

উপজেলার ব্যাসদী গ্রামের কৃষক রাসেল আহম্মেদ জানান, তিনি এক একর ১০ শতাংশ জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। আশা করছি ২‘শ  মণের বেশী উৎপাদন হবে। কিন্তু বাজারে পেঁয়াজের দর পতনে দুশ্চিন্তায় রয়েছি।

উপজেলা কৃষি অফিসার আলভীর রহমান জানান, চলতি ২০২১-২০২২ মৌসুমে মধুখালীতে মোট মুড়িকাটা প্রায় ২৪০ হেক্টর, দানা ১৬০ হেক্টর এবং হালি ২ হাজার ৮৩০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। গত মৌসুমে মধুখালীতে মোট ২ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের পেঁয়াজের আবাদ করা হয়। এ বছর উপজেলায় প্রায় ৪৪ হাজার ৪‘শ ৭৯ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদন হবে আশা করা হচ্ছে। 

 

ইত্তেফাক/এআই