বৃহস্পতিবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৬ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

চরম আয়োডিন সংকটে লবণের মিলগুলো

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০২২, ০২:১২

ভরা মৌসুমে আয়োডিনের চরম সংকটে পড়েছে লবণের মিলগুলো। চাহিদার অর্ধেক সরবরাহও পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে ভোজ্য লবণে আয়োডিনযুক্ত করার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। গত কয়েক মাস যাবৎ আয়োডিনের সংকট বিরাজ করছে। লবণ মিলের মালিকদের অভিযোগ, তারা চাহিদার অনুপাতে আয়োডিন সরবরাহ পাচ্ছে না।

আয়োডিন আমদানি করে থাকে বিসিক। তাদের কাছ থেকে মিলের মালিকেরা আয়োডিন কিনে থাকেন। আয়োডিন না পাওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন তারা। কারণ আয়োডিন যুক্ত না করে ভোজ্য লবণ বিক্রিতে বিধিনিষেধ রয়েছে। এদিকে মিলমালিকদের অভিযোগ, দেশের গুটি কয়েক বৃহত্ লবণ বাজারজাতকারী কোম্পানি একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ আয়োডিন কিনে মজুত করায় সংকটের সৃষ্টি হয়েছে, যাতে ছোট ও মাঝারি মিলগুলো আয়োডিনের সংকটে পড়ে। বিসিকের স্থানীয় কর্মকর্তারা আয়োডিনের সংকটের কথা স্বীকার করে বলেছেন, সংকট সাময়িক। শিগ্গিরই সংকট মিটে যাবে।

বিসিকের কর্মকর্তারা জানান, দেশে বছরে প্রায় ৬০ মেট্রিক টনের মতো আয়োডিনের চাহিদা রয়েছে। বিসিক টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আয়োডিন আমদানি করে থাকে। বছরে কয়েক দফায় ব্রাজিল, চীন ও ভারত থেকে আয়োডিন আমদানি করা হয়। তবে বর্তমানে শুধু ভারত থেকে আয়োডিন আমদানি করা হচ্ছে। দেশে ভোজ্য লবণের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৯ লাখ মেট্রিক টন। এনালগ ফ্যাক্টরিতে ১৫ টন লবণে এক কেজি আয়োডিনের প্রয়োজন হয়। তবে ভ্যাকুয়াম ফ্যাক্টরিতে পরিশোধিত ১৯ মেট্রিক টন লবণে এক কেজি আয়োডিনের প্রয়োজন হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, একসময় মিলগুলোতে বিনা মূল্যে আয়োডিন সরবরাহ করা হতো। বর্তমানে বিসিক থেকে মিলমালিকেরা চাহিদার অনুপাতে আয়োডিন কিনে নেন। প্রতি কেজি আয়োডিনের দাম নেওয়া হয় ৩ হাজার টাকা।

মিলমালিকেরা জানান, গত তিন মাস যাবত্ তারা বিসিক থেকে চাহিদার অনুপাতে আয়োডিন পাচ্ছেন না। সেখান থেকে আয়োডিনের স্বল্পতার কথা জানানো হচ্ছে। এতে মিলে লবণ পরিশোধনের কাজ ব্যাহত হচ্ছে। বাংলাদেশ লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি নুরুল কবির ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমরা চাহিদার অনুপাতে বিসিক থেকে আয়োডিন সরবরাহ পাচ্ছি না। আয়োডিন সরবরাহে ঘাটতি নিয়ে আমরা শিল্পমন্ত্রী 

শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বিসিকের চেয়ারম্যানকে চিঠি দেব। আয়োডিনের স্বল্পতায় বাজারে চাহিদার অনুপাতে ভোজ্য লবণ সরবরাহ দিতে পারছি না। এখন লবণ উত্পাদনের ভরা মৌসুম চলছে। মৌসুমে আয়োডিনের সংকটে লবণ মিলের মালিকেরা বিপাকে পড়েছেন।’

কক্সবাজারের ইসলামপুর লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি শামসুল আলম আজাদ বলেন, আয়োডিনের সংকট সৃষ্টির পেছনে ষড়যন্ত্র রয়েছে। দেশে প্যাকেটজাত ভোজ্য লবণ বিক্রির সাত-আটটি বৃহত্ কোম্পানি রয়েছে। তারা একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ আয়োডিন কিনে মজুত করে রেখেছে। এ কারণে দেশের ছোট ও মাঝারি ধরনের মিলগুলো আয়োডিনের সংকটে পড়েছে। বড় কোম্পানিগুলো চায় না বাজারে ভোজ্য লবণ বিক্রিতে ছোট ও মাঝারি মিলগুলো টিকে থাকুক। আয়োডিনের সংকট নিয়ে জানতে চাইলে বিসিক প্রধান কার্যালয়ের ডিজিএম (লবণ সেল) সারোয়ার হোসেন বলেন, আয়োডিনের কোনো সংকট নেই।

ইত্তেফাক/এসজেড