এনায়েতপুর চরে তলিয়ে গেছে অন্তত ৩০০ বিঘা জমির ধান

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০২২, ১৩:১৫

‘গত বারের থিকা ধান এবার ভাল ওইছিল। দেইহা ভাব ছিলাম ম্যালা ধান পামু। পরিবারের বেহেকে হাতে নিয়া ভাল কইড়া সংসার চালামু। কিন্তু আমরা শ্যাষ। যমুনায় পানি বাইড়া চরের ব্যাবাক ধান ডুইব্যা গ্যাছে। এহন কী খামু। আর কিবা কইড়া চলমু হেডা আল্লাহই জানে।’ কথাগুলো বলছিলেন সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার এনায়েতপুর গ্রামের কৃষক জামাল মীরের স্ত্রী নাসিমা খাতুন (৫০)। হঠাত্ যমুনার পানি বৃদ্ধির কারণে তার ৭ বিঘা জমির বোরো ধান তলিয়ে গেছে। তার মধ্যে শনিবার সকালে ১ বিঘা জমির ধান কোনো রকমে তুলে এনায়েতপুর ঘাটে জমা করছিলেন তিনি। তার মতো অবস্থা এনায়েতপুর চর, বেতিল, বিনদহ, ধুলিয়াবাড়ি, কোচগ্রামসহ আশপাশের পাঁচ শতাধিক কৃষকের।

এনায়েতপুর গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ফরিদ আলী ও আক্তার হোসেন জানান, প্রতি বছরই পানি আসে। তবে এভাবে এত ক্ষতি হয়নি। আমাদের শুধু এনায়েতপুর চরেরই অন্তত ৩০০ বিঘা আবাদি বোরো তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে ৩০/৪০ বিঘা জমির ধান তুলতে সক্ষম হয়েছি। এত ক্ষতি পোষানো এখন দায় হয়ে পড়েছে।

জানা যায়, যমুনায় হঠাত্ অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধিতে তলিয়ে গেছে হাজারো একর জমির এ আবাদি ফসল। যে কৃষকের ৫০ মণ ধান ঘরে তুলবার কথা সেখানে চার-পাঁচ মণের ওপরে আর জুটছে না। এজন্য অনেকটা হতাশা নিয়েই তলিয়ে যাওয়া এসব আধা পাকা ধান কোমড় পানিতে নেমে সংগ্রহ করছে তারা। বেতিল চরের কৃষক বুলবুল হোসেন যমুনার তীর ঘেঁষে তার ১১ বিঘা জমিতে বোরো চাষ করছিলেন। ভালই ফলানো এই ধান আর কিছু দিন পরেই গোলায় তোলার কথা ছিল তার। কিন্তু হঠাত্ নদীর পানি বৃদ্ধিতে তার সে ধান তলিয়ে গেছে। হতাশা নিয়ে আধাপাকা ধানগুলো কোমড় পানিতে নেমে স্বজনদের নিয়ে তা কাটার চেষ্টা চালাচ্ছেন। 

স্থানীয় কৃষক এরশাদ আলী জানান, বর্তমানে ডুবন্ত ধান তোলার জন্য শ্রমিক মিলছে না। এজন্য দিনে শ্রমিকদের ৭০০ টাকা মজুরি দিয়ে ধান তুলতে হচ্ছে। অন্তত আমার ২ লাখ টাকা লোকসান হবে। এ ব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক এ জে এম আহসান শাহেদ সরকার জানান, চৌহালী ও শাহজাদপুরের যমুনার তীরবর্তী নিচু চরের বোরো ধানের ক্ষতি সাধিত হয়েছে। তা নিরূপণ করে কৃষকদের সহযোগিতা করা হবে।

ইত্তেফাক/ইআ