হত্যার গুজব রটিয়ে প্রতিপক্ষের বাড়িতে ভাঙচুর-লুটপাট

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০২২, ১৭:৩৬

ফরিদপুরের সালথায় আমিনুল মিয়া নামে এক তরুণ ভ্যানচালককে হত্যার গুজব রটিয়ে প্রতিপক্ষের অন্তত ১৪টি বাড়ি ও একটি ইট ভাটায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় দুই জন আহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে। শনিবার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের খারদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, খারদিয়া বাজারের মোড়ে শনিবার সন্ধ্যায় ভ্যান রাখা নিয়ে যদুনন্দী ইউপি চেয়ারম্যান রফিক মোল্যার সমর্থক ভ্যানচালক আমিনুল মিয়ার (২২) সঙ্গে একই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর মিয়ার সমর্থক ভ্যানচালক সাজ্জাদ শেখের (২৫) কথা কাটাকাটি হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে আলমগীর মিয়ার সমর্থকরা বাজারে জড়ো হয়ে ভ্যানচালক আমিনুলকে পিটিয়ে তার পা ভেঙ্গে দেয়। অপরদিকে একই সময় রফিকের সমর্থকরা অপর ভ্যানচালক সাজ্জাদকেও কুপিয়ে জখম করে। পাল্টাপাল্টি হামলায় আহত দুই জনকেই স্থানীয়রা উদ্ধার করে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। এরমধ্যে রাত ৮টার দিকে আমিনুল হাসপাতালে মারা গেছে বলে এলাকায় ভুয়া খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। 

এর একপর্যায়ে আওয়ামী লীগ নেতা আলমগীরের সমর্থকরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। পরে চেয়ারম্যান রফিকের শতাধিক সমর্থক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আলমগীরের সমর্থক টিপু শেখ, ইরাদত মোল্যা, আকরাম মোল্যা, শাহাদত মোল্যাসহ বেশ কয়েকজনের বসতঘরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর-লুটপাট করে। পরে আলমগীরের ইট ভাটাতেও ব্যাপক ভাঙচুর করে তারা।

যদুনন্দী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর মিয়া বলেন, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় বাজারে ভ্যান রাখা নিয়ে আমার সমর্থক সাজ্জাদের সঙ্গে রফিকের সমর্থক আমিনুলের মারামারি হয়। এতে দুই জনই আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর রাত ৮টার দিকে রফিকের সমর্থকরা আমিনুলের ভুয়া মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে আমার সমর্থকদের বাড়িতে গিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। তারা ঘরের ভিতরে ঢুকে নারীদের সঙ্গেও খারাপ আচরণ করে। আমার ইট ভাটায়ও হামলা-ভাঙচুর চালিয়ে ব্যাপক ক্ষতি করে।

অপরদিকে ইউপি চেয়ারম্যান রফিক মোল্যা বলেন, এটি একটি দুর্ঘটনা। আমিনুল নামে আমার এক লোক হামলায় মারা যাওয়ার খবরে ভাঙচুরের ঘটনাটি ঘটেছে। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। এ ঘটনার যারা জড়িত তাদের বিচার আমিও চাই।

সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা-সালথা সার্কেল) মো. সুমিনুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে কি কারণে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনটি ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই এলাকায় আবারও সংঘর্ষের আশঙ্কা থাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিবেশ স্বাভাবিক হওয়ার আগ পর্যন্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি