ঢাকার সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনাভাইরাসের টিকা নিতে গেলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) দুই শিক্ষার্থীকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার বিচারের দাবিতে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী।
রবিবার (১০ এপ্রিল) সন্ধ্যা সোয়া সাতটা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় মহাসড়কের দুই কিলোমিটারের বেশি এলাকাজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়।
পরে রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসানসহ প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা সেখানে যান। তারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলার পর অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
অবরোধকারী শিক্ষার্থীরা জানান, রবিবার দুপুর ১টার দিকে সাভারের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কেন্দ্রে টিকা নিতে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ৪৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. ইমন এবং নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের ৪৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. মাজেদ।
লাইনে দাঁড়ানো অবস্থায় দুপুর ১টা বেজে যাওয়ায় টিকা দেওয়া বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। টিকাপ্রত্যাশীদের অনেকেই লাইনে দাঁড়ানো থাকায় লাইন শেষ হওয়া পর্যন্ত টিকা দেওয়ার অনুরোধ জানান তারা। এসময় টিকাদানকারী স্বাস্থ্যকর্মীরা এতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়।
শিক্ষার্থীদের দাবি, বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে চারজন স্বাস্থ্যকর্মী মিলে জাবি শিক্ষার্থী ইমন ও মাজেদকে মারধর শুরু করে। পরে তাদের সাভার মডেল থানায় নিয়ে যায় স্বাস্থ্যকর্মীরা। স্বাস্থ্যকর্মীরা তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় কাজে বাঁধা প্রদানের অভিযোগ করেন।
শিক্ষার্থী ইমন ও মাজেদ অসুস্থ অবস্থায় সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন। মারধরের অভিযোগের বিষয়টির এখনো মীমাংসা হয়নি।
সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সায়েমুল হুদা বলেন, প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, ওই দুই শিক্ষার্থী জোর করে টিকা নিতে গেলে তাদের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। পরে স্বাস্থ্যকর্মীরা তাদের থানায় নিয়ে যায়। আমি বিষয়টি নিয়ে সাভার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও দু’পক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রকৃত ঘটনা জানার চেষ্টা করছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, শিক্ষার্থীদের অভিযোগ শুনেছি। আমরা যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবো।
এ বিষয়ে জানতে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মাইনুল ইসলামকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি।
