ঝিনাইগাতীর পাহাড়ি গ্রামে পানীয় জলের তীব্র সংকট

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২২, ১১:১৭

শেরপুরের সীমান্তবর্তী পাহাড়ি গ্রামগুলোতে পানীয় জলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে নদী-নালা, ডোবা ও কূপের দূষিত পানি পান করে নানা ধরনের পেটের পীড়াসহ পানিবাহিত রোগে ভুগছেন শত শত মানুষ। 

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইগাতী উপজেলার সীমান্তবর্তী পাহাড়ি গ্রামগুলোতে চলতি মৌসুমে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ১০০ ফুট নিচে নেমে গেছে। এতে শত শত অগভীর নলকূপ অকেজো হয়ে পড়েছে। এসব অকেজো নলকূপে পানি উঠছে না। ফলে পাহাড়ি গ্রামগুলোতে বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পাহাড়ি গ্রামবাসীরা খালবিল, নদী-নালা ও কূপের দূষিত পানি পান করার পাশাপাশি গৃহস্হালির কাজেও ব্যবহার করছে। আবার অনেকে অন্য গ্রাম থেকে পানি সংগ্রহ কোনো রকমে চলছেন।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছরই শুষ্ক মৌসুমে সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলার প্রায় ৩০টি পাহাড়ি গ্রামে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যায়। এ সময় শত শত অগভীর নলকূপ অকেজো হয়ে পড়ে। ফলে বিশুদ্ধ খাওয়ার পানির তীব্র সংকট দেখা দেয়। ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রুকুনুজ্জামান এবং কাংশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আতাউর রহমান বলেন, পাহাড়ি গ্রামবাসী দরিদ্রসীমার নিচে বাস করেন। তাই আর্থিক সংকটের কারণে গভীর নলকূপ স্থাপন তাদের পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠে না। তাই স্বল্প পরিসরে ২০ থেকে ৩০ ফুট নিচের যে পানি পাওয়া যায়, সে অনুযায়ী চাপকল স্হাপন করে ঐ পানিতে জীবন ধারণ করেন পাহাড়ি গ্রামবাসী। 

হালচাটি গ্রামের দ্বিজ্য মোহন কোচ, ছোট গজনী গ্রামের ফিলিসন সাংমা বলেন, শুষ্ক মৌসুমে পানির স্তর নিচে নেমে গেলে নলকূপগুলো অকেজো হয়ে পড়ে। ফলে পাহাড়ি গ্রামগুলোতে দেখা দেয় খাওয়ার পানির তীব্র সংকট। বর্তমানেও খাবার পানির তীব্র সংকট চলছে।

ঝিনাইগাতী উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তা রাধা বল্লব বলেন, প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ১০০ থেকে ১২০ ফুট নিচে নেমে যায়। ফলে স্বল্প লেয়ারের নলকূপগুলোতে পানি ওঠে না। এতে এলাকায় দেখা দেয় খাওয়ার পানির তীব্র সংকট। তিনি বলেন, সরকারিভাবে গভীর নলকূপের বরাদ্দ যা পাওয়া যায় তা প্রয়োজনের তুলনায় কম। 

ইত্তেফাক/ইআ