কয়েক দিন ধরে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পাহাড়ি ঢলে যমুনার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তলিয়ে গেছে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে নদী তীরবর্তী চরে বোরো ধান, গমসহ বিভিন্ন ফসল। ফলে বাধ্য হয়ে কাঁচা ধান কাটছেন কৃষকরা।
সরজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার গোবিন্দাসী, নিকরাইল, অজূর্না ও গাবসারা ইউনিয়নের যমুনা নদীতে জেগে উঠা চরে ফলানো স্থানীয় বোরো ধান ও গম পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। তবে গম কাটার উপযোগী না হলেও কাঁচা ধান কাটতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা। এতে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখে পড়েছেন তারা।
স্থানীয়রা জানায়, অতিরিক্ত ফসল পাওয়ার জন্য অনেক কৃষক জেগে উঠা চর ও নদীর পাড়ে স্থানীয় বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসল আবাদ করে। হঠাৎ নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ফসলগুলো পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে।
উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে উপজেলায় যমুনা চরাঞ্চলে ৬৯০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে চরাঞ্চলের উপরিভাগে ৯০ হেক্টর জমিতে স্থানীয় জাতের বোরো ধান চাষ করা হয়েছে, যার মধ্যে মধ্যে প্রায় ৪০ হেক্টর জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে।
উপজেলার খানুরবাড়ি গ্রামের সলিমুদ্দিন জানান, চরাঞ্চলে আবাদ খুবই ভালো হয়েছিল। তবে হঠাত্ পানি চলে আসায় বোরো ধান তলিয়ে গেছে। ধান কাঁচা থাকলেও কাটতে হচ্ছে যাতে গরুকে খাওয়াতে পারি। মানুষ তো আর খেতে পারবে না। পাঁচ একর জমির সব ফসল নষ্ট হয়ে গেছে।
আরেক কৃষক শাহ আলম বলেন, জমিতে বোরো ধান আবাদ করতে খরচ হয়েছে প্রায় ১০ হাজার টাকা। কিন্তু পানি বাড়ায় সেই টাকা জলেই চলে গেল। কাঁচা ধান কাটছি, যদি এখান থেকে কিছু ধান পাওয়া যায় সেই আশায়। আর বাকি ধানের গাছ খড় বানিয়ে গরুকে খাওয়ানো হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. মো. হুমায়ুন কবির বলেন, উপজেলায় ৭ হাজার ২৯০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে স্থানীয় জাতের বোরো ধানের আবাদ হয়েছে ৬৯০ হেক্টর জমিতে। উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে নদীর তীরে কৃষকরা স্থানীয় জাতের বোরো ধানের আবাদ করেছিলেন। ধান বর্তমানে পরিপক্ব পর্যায়ে আছে। অনেক কৃষক ধান কাটা শুরু করেছেন। কিন্তু যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কিছু ধান পানির নিচে রয়েছে। শিগগিরই পানি কমে গেলে তেমন ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
