ফুলবাড়ি চা বাগান

জীর্ণ ঘরে বিপন্ন জীবন

আপডেট : ০২ জুন ২০১৯, ২১:৩৬

 কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা

চা বাগানের চারদিকে উঁচু-নিচু টিলার মাঝখানে মাটির দেয়ালের বেড়ার ঘর। উপরে ছনের ছাউনি দিয়ে কোনোমতে মাথা গোঁজার ঠাঁই। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের ফুলবাড়ি চা বাগানের দুর্গম এলাকায় ছন ও খড়ের ছাউনি দিয়ে জীর্ণ ঘরে প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে এভাবেই দিন কাটাচ্ছেন চা শ্রমিক সরস্বতী মহালি। সরস্বতীর মতো অবস্থা বাগানের হাজেরা বেগম, নিয়তি কর্মীসহ আরও অনেকের।

সরেজমিন ফুলবাড়ি চা বাগানের ৮ নম্বর লাইনে গিয়ে দেখা যায়, মাটির দেয়াল, ছনবাঁশের ছাউনির ভাঙাচুরা ঘরেই শিশুদের নিয়ে জীবনধারণ করছেন বাগানের সরস্বতী মহালি, হাজেরা বেগম ও নিয়তি কর্মীরা। দীর্ঘদিন ধরে চা বাগানের অস্থায়ী চা শ্রমিক হিসেবে থাকার কারণে চা বাগান কর্তৃপক্ষ তাদের কোনো ধরনের রেশন ভাতাদি প্রদান করছে না। এমনকি ভাঙা ঘর সংস্কারের জন্য কোনো আর্থিক সুবিধাও পান না তারা। শ্রম আইন অনুযায়ী, অস্থায়ী শ্রমিক ৯০ দিন কাজ করলে তাকে স্থায়ীকরণ করার কথা। পাঁচ বছর ধরে কাজ করলেও তাদের স্থায়ীকরণ করা হচ্ছে না।

সরস্বতী মহালি ও হাজেরা বেগম বলেন, বৃষ্টি আসলে ঘরে বৃষ্টির পানি পড়ে। ঝড় আসলে রাতে ঘুমাতে পারি না। কখন যে ঘর ভেঙ্গে যায় এ জন্য রাত জেগে কাটাতে হয়। আমরা প্রায় পাঁচ বছর ধরে চা বাগানে কাজ করলেও স্থায়ীকরণ করা হয়নি। ফুলবাড়ি চা বাগান ঘুরে দেখা যায়, সরকারিভাবে বাগানে বৈদ্যুতিক লাইন স্থাপন হলেও হতদরিদ্র চা শ্রমিকরা অর্থাভাবে নিজেদের আবাসস্থল মেরামত ও বৈদ্যুতিক ওয়্যারিং করতে পারছেন না। ফলে তারা বিদ্যুত্ সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। সপ্তাহে ৬ দিন কাজ করে ছয়শ টাকা মজুরি দিয়ে পাঁচ/ছয় জনের সংসার চালানো কঠিন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রাম ভজন কৈরী বলেন, বাগানে অস্থায়ী শ্রমিক মূলত কিছুদিনের জন্য কাজ করে। তারা নিয়মিত কাজ করেন না বিধায় অস্থায়ী রাখা হয়। তবে যারা স্থায়ী শ্রমিক তাদেরকে বাগান কর্তৃপক্ষ পাশাপাশি আবাসনের জন্য আর্থিক অনুদান প্রদান করে। বিষয়টি নিয়ে বাগান ব্যবস্থাপকের সাথে আলাপ করবেন বলে জানান তিনি।

ফুলবাড়ি চা বাগানের জেনারেল ম্যানেজারের (জিম) লুত্ফুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, চা বাগান কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী প্রতি একর চা বাগানের জন্য একজন শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। ফুলবাড়ি চা বাগানের আয়তন অনুযায়ী শ্রমিক পূর্ণ থাকায়, বাগান কর্তৃপক্ষ নতুনভাবে কোনো চা শ্রমিক নিয়োগ করছেন না বিধায় অনেকেই অস্থায়ীভাবে বাগানে কাজ করছেন। যদি কোনো স্থায়ী শ্রমিকের শূন্য পদ হয়, তাহলে বাগান কর্তৃপক্ষ অস্থায়ী শ্রমিক থেকে স্থায়ী শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি আরো বলেন, বাগানের স্থায়ী শ্রমিকরা বাগান কর্তৃপক্ষ থেকে রেশন ভাতা এবং আবাসনের জন্য সুব্যবস্থা পেলেও অস্থায়ী শ্রমিকরা এই সুবিধাটি পাচ্ছেন না।