কুড়িগ্রামের রাজারহাটে গত কয়েক দিনের বৃষ্টিপাতের ফলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ডুবে গিয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ইরি, বোরো ফসল। অনেকে লাভের আশায় ধার দেনা করে ইরি আবাদ করেছেন। পানি জমে পচে যাচ্ছে মাঠের পর মাঠ, ধানের জমি, চোখের সামনে ফসল নষ্ট হতে দেখে হতাশায় দিন কাটছে কৃষকদের।
সরেজমিনে দেখা যায় উপজেলার ইটাকুরির দোলা, পুটিকাটার দোলা, দেউলার দোলা সহ অনেক এলাকার ইরি খেত ডুবে গেছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত চাকিরপশার বিলের অভ্যন্তরে প্রায় ৫০/৫৫ একর জমির ফসল। চাকির পশার বিলটি রাজারহাট সদর ইউনিয়নে অবস্থিত ৩টি মৌজা ছাটমল্লিকবেগ, খালিসা ও চাঁন্দামারী নিয়ে এই বিলটির মূল অবস্থান। প্রতি বছর ১ ফসলি হিসেবে ব্যবহৃত হয় এই বিলের প্রায় ৫০/৫৫ একর জমি। কৃষকেরা প্রতিবছর শত শত মন ধান পেয়ে থাকেন যা দিয়ে খাওয়া দাওয়া বদে অতিরিক্ত ধান বিক্রি করে সংসারের প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করতেন। এবারে ধান তুলতে পারবেন কিনা ভাগ্যের হাতে ছেড়ে দিয়েছেন।
চাকির পশার বিলের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মোর প্রায় ২ একর জমির ধান ডুবছে তার উপর কচুরিপানা উঠি সব গুলা পচি গেল, এবার কি দিয়া বউ, ছাওয়া পালমো চিন্তায় বাঁচি না, তার উপরা দেনা পাওনা তো আছে।
আবু সাঈদ মিয়া বলেন, আমার ১ একর ৫০ শতক জমির ইরি ধান ডুবে গেছে, এই জমিতে ধান পাব তার কোন আশা নাই। এ রকম আব্দুছ সালাম, মোজাম্মেল রাজামিয়া, উমর আলী সহ আরো অনেকেই এবারে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করচেন, অপরিকল্পিত ও তাড়াহুড়া করে ইটাকুরির মুখ হইতে চাকির পশার বিল পর্যন্ত গত ২০-২১ অর্থ বছরে নালা খনন করার ফলে এই বিলে আগাম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে ফসল নষ্ট হয়ে গেল। বিলের ভাটিতে নালা খনন না করা পর্যন্ত বিলের আগাম জলাবদ্ধতা ও পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূরে তাসনিম বলেন, দ্রুত সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আবারও ঢলের আশঙ্কায় দ্রুত ধান কাটার প্রস্তুতি
স্বরূপকাঠিতে জমে উঠছে তরমুজের ভাসমান হাট