নওগাঁর বদলগাছীতে ছোট যমুনা নদী যৌবন হারিয়ে যেন মরা খালে পরিণত হয়েছে কৃষকেরা ফলাচ্ছেন সব ধরনের ফসল। নদীর বুকজুড়ে বোরো ধান চাষ যেন দিন দিন বেড়েই চলছে। ঐতিহ্যবাহী বদলগাছী উপজেলার কোলঘেঁষে ছোট যমুনা নদী প্রবাহিত হয়েছে।
নদীর কথা ভাবতেই মনে পড়ে শৈশবে ফেলে আসা হারানো দিনের পুরনো কবিতার কথা। কবির কাব্যের সঙ্গে বর্তমান নদীর চিত্র যদিও একেবারে ভিন্ন। মূলত বর্ষার মৌসুমে ১/২ মাস নদীতে জোয়ার থাকে, বিগত কয়েক বছর থেকে ছোট যমুনা নদী তার আপন সত্তা হারিয়ে আগাম শুকিয়ে যাওয়ায় নদীর বুকে চলতি মৌসুমে বোরো ধান, চাষ করছেন স্থানীয় ভূমিহীন কৃষকরা। অথচ একসময় এই নদীই ছিল এলাকার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম নদীপথ।
ভরা যৌবন জোয়ারে পরিপূর্ণ নদীতে এক সময় চলতো পাল তোলা নৌকা, দূর থেকে ভেসে আসতো মাঝি মাল্লার গান। নদীর হাঁটু জলে গরুর গাড়ি পারাপার হতো। গ্রামের ছোট ছেলে-মেয়েদের নদীর জলে সাঁতার কাটার দৃশ্য, এখন নদীর জোয়ারের সেই কলকল ধ্বনি ঝর ঝর করে নেমে আসা ঝরনার আওয়াজ এখন শুধু যেন ফসলের মাঠ। নদ নদী দেশের প্রাণ এখন সেই নদীই যেন নিষ্প্রাণ, মরা খাল। জলবায়ুর পরিবর্তন আর প্রাকৃতিক বিরূপ প্রভাবে নদীকে নিয়ে যত ছন্দ কবিতা আর গান সব কিছুতেই যেন থমকে দাঁড়িয়েছে। তখন সুখ-দুঃখ আবেগ অনুভূতি যেন হৃদয়কে নানাভাবে দোলা দেয়। আবেগময় হৃদয়ে স্বপ্ন কথা শুকনো নদীর সঙ্গে তুলনা করেন কবি।
কবি সাহিত্য কিংবা কবিতার ছন্দ কথা নিয়ে গিটারের ঝংকারে শিল্পীর গানের সুরে সুরে মানুষ অবুঝ মনকে ব্যকুল করে তুলতো। বদলগাছীর ওপর দিয়ে প্রবাহিত সেই খরস্রোতা ছোট যমুনা নদী শুধু বর্ষাকালে কয়েক দিনের জন্য ফুটে ওঠে নদীর চিত্র। এখন নদীর তলায় চাষাবাদ হচ্ছে ধান, সরিষা, আলুসহ অনেক ফসল।
ছোট যমুনার বর্তমান গতিপথ কূল কিনারা দেখে উপজেলার সচেতন মহলের ধারনা, আগামী ১০ বছর পর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে কবির কাব্য কথা কিংবা শিল্পীর গানের কথার মতোই দাঁড়িয়েছে। বদলগাছীর কাদিবাড়ী ঘাটে প্রবীণ সাধু মাঝি বলেন, নদীর গতি পথ নদীর প্রাণ সেই গতি পথ যদি হয় রুদ্ধ আর ভরাট তাহলে নদীতে থাকবে না আর জল, চলবে না নৌকা। তাই আমাদের এই ছোট যমুনা কে বাঁচাতে হলে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সেইসঙ্গে সরকারিভাবে যদি নদী খননের মধ্য দিয়ে আবারও ফিরিয়ে আনতে পারে তাহলে কিছুটা হলেও ফিরয়ে আসবে নদীর সেই ভরা যৌবন।
এই ব্যাপারে বদলগাছী উপজেলা চেয়ারম্যান সামসুল আলম খান নদী খনন না করলে অস্তিত থাকবে না। নওগাঁ জেলা পানিউন্নয় বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান বলেন, ‘বড় প্রকল্পের মাধ্যমে যদি নদী খনন করা হয় তাহলে সমস্যার সমাধান হবে।’

পানির নিচে চাকিরপশার বিলের ইরি ধান
আবারও ঢলের আশঙ্কায় দ্রুত ধান কাটার প্রস্তুতি