ফরিদপুরে স্ত্রীর সঙ্গে প্রেমের অভিযোগে বন্ধু রানা শেখ ওরফে টোকাই রানার (৩৬) মুখমণ্ডল এসিড দিয়ে ঝলসে দেওয়া এবং ভ্রমর দিয়ে দুই চোখে আঘাত করার ঘটনায় অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম রিপন ওরফে টাকি রিপনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার (১১ এপ্রিল) দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফরিদপুর সদরের ঈশান গোপালপুর বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিষয়টি জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) জামাল পাশা।
এসিডে দগ্ধ রানা শেখ শহরের মধ্য আলীপুর এলাকার আব্দুর রবের ছেলে। রানা এলাকায় ‘টোকাই’ রানা হিসেবে পরিচিত। অপরদিকে রিপন (৩৬) গুহলক্ষ্ণীপুর মহল্লার বাসিন্দা মৃত আব্দুল শেখের ছেলে। এলাকায় সে ‘টাকি’ রিপন নামে পরিচিত।
লিখিত বক্তব্যে মামলার বাদী রানা শেখের মা হাজেরা বেগমের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ‘গত ২ এপ্রিল আনুমানিক সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে তার ছেলেকে (রানা) ডেকে নিয়ে শহরের গুহলক্ষ্ণীপুর মহল্লার দ্বারিকানাথ হিন্দু ছাত্রবাসের কাছে নিয়ে যায়। এ সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে সাইফুল ইসলাম রিপন ও তার সঙ্গে থাকা আরও ৫-৬ জন রানার দুই চোখ ভ্রমর দিয়ে খুঁচিয়ে জখম করে। পরে তার মুখে এসিড নিক্ষেপ করে।’
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল পাশা জানান, রানার স্ত্রীর সঙ্গে রিপনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তারা একে অপরের বন্ধু। এই সম্পর্ক নিয়েই তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব। সেই দ্বন্দ্ব থেকেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
ফরিদপুর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শামীম হাসান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাতে রিপনকে ঈশান গোপালপুর বাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে রিপন ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তাকে আজ বিকেলে আদালতে সোপর্দ করা হবে। সে যদি বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি না দেন, তাহলে তাকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানানো হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, রিপনের বিরুদ্ধে ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় ২০০২ সালে এসিড অপরাধ, অস্ত্র, মাদক, চুরি, দস্যুতাসহ মোট নয়টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

বাবর-রুবেল-বরকতসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ