আবার ইউরোপ সেরা লিভারপুল

আপডেট : ০২ জুন ২০১৯, ২১:৫৬

প্রতীক্ষার অবসান

টটেনহ্যাম ০ :২ লিভারপুল

 স্পোর্টস ডেস্ক

নিয়তি এবার আর লিভারপুল কিংবা তার কোচ য়ুর্গেন ক্লপকে বঞ্চিত করেনি। অবসান ঘটেছে উভয়ের দীর্ঘ প্রতীক্ষার। গেলবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের বিরুদ্ধে মোহামেদ সালাহ কাঁধে ব্যথা পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হলে কপাল পুড়েছিল লিভারপুলের। এবার সারাক্ষণ খেললেন তিনি এবং শুরুতেই পেনাল্টি মেরে টটেনহ্যাম হটস্পারের বিরুদ্ধে গোল করে এগিয়ে দিলেন দলকে। তারপর লিভারপুল সেটা ধরে রাখলো সারাক্ষণ এবং শেষদিকে ডিভক অরিগি গোলে নিশ্চিত হলো ২-০ জয়টি।

লিভারপুলের এটি ষষ্ঠ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়। গত শনিবার অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের মাঠে জয়টির সুবাদে অলরেডরা মহাদেশীয় এই প্রতিযোগিতার শিরোপা জয়ে বার্সেলোনা ও বায়ার্ন মিউনিখকে ছাড়িয়ে গেল। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানচেষ্টার ইউনাইটেডের তুলনায় যা দ্বিগুণ।

মাদ্রিদের মেট্রোপলিটানো স্টেডিয়ামে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দল দুটি মাঠে নামার পর দ্বিতীয় মিনিটেই গোল পেয়ে খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেয় ক্লপের দল। বক্সে মুসা সিসোকোর হ্যান্ডবলের সুবাদে পেনাল্টি পেয়েছিল লিভারপুল। তা থেকেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালের দ্রুততম গোলটি করেন মিসরীয় স্ট্রাইকার সালাহ।

টটেনহ্যাম দ্বিতীয়ার্ধের শেষদিকে অনেক আক্রমণ করেছিল। কিন্তু ব্রাজিল গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার আস্থার সাথে সেসব রুখে দেন। সন হিউং-মিন, লুকাস মৌরা ও ক্রিস্টিয়ান এরিকসনের তিনটি বিপজ্জনক বল ফেরান তিনি। এরপর ৮৭ মিনিটে আসে বদলি হিসেবে মাঠে নামার অরিগির গোলটি।

এর মধ্য দিয়ে গত বছরের হারটির ও কদিন আগে ম্যানচেষ্টার সিটির কাছে প্রিমিয়ার লিগের লড়াইয়ে পরাস্ত হওয়ার কষ্ট কাটিয়ে ওঠার সুযোগ পেল লিভারপুল সমর্থকরা। যদিও লিভারপুল কিংবা টটেনহ্যাম কেউই সেমিফাইনালে দেখানো নৈপুণ্যের ধারেকাছে ছিল না এদিন।

কোচ মরিচিও পচেত্তিনো এদিন জয়ের আশায় ইংল্যান্ড অধিনায়ক ও তার মূল স্ট্রাইকার হ্যারি কেইনকে খেলান। তাতে বেঞ্চে বসতে হয় আয়াক্সের বিরুদ্ধে সেমিফাইনাল হিরো মৌরাকে। কিন্তু গোড়ালির ইনজুরির কারণে এপ্রিলের পর দীর্ঘদিন না খেলা এই স্ট্রাইকার প্রথমবার মাঠে নেমে সুবিধা করতে পারেননি। আর্জেন্টাইন এই কোচ অবশ্য ভবিষ্যতে আরো ফাইনাল খেলার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। 

ক্লপ এর আগে ছয়টি টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠলেও শিরোপা জিততে পারেননি। এর মধ্যে তিনটি ছিল লিভারপুলের সাথে। এখন সে প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে লিভারপুল কোচ হিসেবেও পেলেন প্রথম ট্রফি। ক্লপ বলেন,‘চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয় হলো আমাদের পেশাদার জীবনের সেরা রাত’।

জার্মান এই কোচ অ্যানফিল্ডে আসার পর এই প্রথম বড় কোনো শিরোপা জিতলো দলটি। ক্লপ খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে আসেন বিয়ার হাতে এবং বলেন,‘আমরা একত্রে উদযাপন করবো। আমাদের একটা দারুণ রাত এসেছে। আমি অনেক ভারমুক্ত অনুভব করছি, বিশেষ করে আমার পরিবারের জন্য। শেষ ছয়বার আমরা ছুটি কাটাতে গেছি কেবল রুপার পদক নিয়ে।’

জর্ডান হেন্ডারসন গতবারের ফাইনালে হারের সময়ও দলটির নেতৃত্বে ছিলেন। এবারের সাফল্যের জন্য ক্লপকে শ্রদ্ধা জানান তিনি। ২০১১ সাল থেকে লিভারপুলে খেলা এই মিডফিল্ডার বলেন,‘এই কোচকে ছাড়া এটা অসম্ভব ছিল। একটা মৌসুমে আপনি কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে পারেন, কিন্তু উনি এখানে আসার পর যা করেছেন তা অবিশ্বাস্য। সবার মধ্যে মিলেমিশে একাকার হওয়া ছাড়াও তিনি সাজঘরের পরিবেশটাকে অন্যরকম করে দিয়েছেন। তাই সব প্রশংসাই কোচের।’

ইংলিশ ক্লাবটির সাম্প্রতিক পুনরুজ্জীবনের পেছনে একটা বড় অবদান আছে স্ট্রাইকার সালাহর। গেলবার সার্জিও র্যামোসের সাথে ধাক্কা খেয়ে মাঠ ছাড়তে হলেও এবারের ফাইনালটি ছিল অনেক ভালো। এদিন বল জালে পাঠিয়ে কোনো ইউরোপিয়ান কাপের ফাইনালে গোল করার ক্ষেত্রে তিনি হলেন পঞ্চম আফ্রিকান।

সালাহ জয়ের পর বলেন,‘সবাই এখন খুশি। আমি টানা দ্বিতীয় ফাইনাল ও অবশেষে পুরো ৯০ মিনিট খেলতে পেরে আনন্দিত। আজ সবাই নিজের সেরাটা দিয়েছে। আমি আমার ক্যারিয়ারে অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি। একটা গ্রাম থেকে কায়রো এসেছিলাম এবং এই পর্যায়ে একজন মিসরীয় হওয়াটা আমার কাছে অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে।’

লিভারপুল গতকালই নিজ শহরে ট্রফি নিয়ে বিজয় উদযাপন করেছে।