উইকেটের ঘাসে ভড়কে গিয়েছিল লঙ্কানরা

আপডেট : ০২ জুন ২০১৯, ২১:৫৭

স্পোর্টস রিপোর্টার

বেশ অস্থিরতাকে সঙ্গী করেই বিশ্বকাপে এসেছিল শ্রীলঙ্কা। চার বছর পর ওয়ানডে দলে ফিরিয়ে দিমুথ করুনারত্নেকে নেতৃত্বের ভার দেওয়া হয়। সামগ্রিক অস্বস্তিকে চাপা দিলেও বিশ্বকাপের শুরুটা ভালো হয়নি শ্রীলঙ্কার। গত শনিবার কার্ডিফে নিউজিল্যান্ডের কাছে বিধ্বস্ত হয়েছে লঙ্কানরা। ম্যাচ হেরেছে ১০ উইকেটে।

কার্ডিফে শ্রীলঙ্কার ব্যাটসম্যানদের নাকের-চোখের জল এক করে দিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের ফাস্ট বোলাররা। লুকি ফার্গুসন, ম্যাট হেনরি, ট্রেন্ট বোল্টরা ২২ গজে বিষিয়ে তুলেছিলেন লঙ্কান ব্যাটসম্যানদের জীবন। বাউন্সার, সুইংয়ের বিপরীতে উইকেটে টিকে থাকতে ব্যর্থ হয়েছেন ম্যাথুস-মেন্ডিসরা। শ্রীলঙ্কার ইনিংসটা স্থায়ী হয়েছিল মাত্র ২৯.২ ওভার। অধিনায়ক করুনারত্নের হাফ সেঞ্চুরিতে ১৩৬ রানের পুঁজি গড়তে সক্ষম হয়েছিল শ্রীলঙ্কা। যেখানে করুনারত্নে ৫২ রান করেছেন।

ব্যাটসম্যানদের এমন হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ার পেছনে উইকেটের ঘাসকে দায়ী করেছেন করুনারত্নে। ম্যাচ শেষে তিনি বলেছেন, কার্ডিফের উইকেটের সবুজ ঘাস বিস্মিত করেছিল তাদের। ঘাস এবং কিউই পেসারদের গতি, সুইং ভীতি ছড়িয়ে দিয়েছিল লঙ্কান শিবিরে। ব্যাটিংয়ে প্রতিরোধই গড়তে পারেনি তারা।

একই মাঠে আগামী ৪ জুন নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে খেলবে শ্রীলঙ্কা। শনিবার রাতে ম্যাচ হারের কারণ হিসেবে উইকেটের ঘাসের কথা উল্লেখ করে করুনারত্নে বলেছেন, ‘সবাই এখানে কিছু বিনোদন পেতেই আসে। আমার মনে হয়, ম্যাচের আগে একটা ঘাসের স্তর ছিল। কিন্তু আমরা ভেবেছিলাম, এটা কেটে ফেলা হবে। কিন্তু তারা ঘাসটা রেখে দিয়েছিল।’

পাকিস্তানের ১০৫ রানের পর শ্রীলঙ্কার ১৩৬। এমন লো স্কোরিং ম্যাচে বিরক্ত লঙ্কান অধিনায়ক। তিনি বলেছেন, ‘আমার মনে করি আপনি যদি বিশ্বকাপের কথা বলেন, সবাই দেখতে চায় ভালো ম্যাচ, হাই স্কোরিং ম্যাচ। তাই আমি মনে করি আমরা ভালো উইকেট পাবো পরের ম্যাচগুলোতে। আমরা সেরাটা খেলার চেষ্টা করব।’

ওপেনিংয়ে নেমে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন করুনারত্নে। সতীর্থরা সাপোর্ট দিতে পারেননি অধিনায়ককে। তার মতে, কন্ডিশনের চেয়ে মনের বাঘেই সর্বনাশ হয়েছিল লঙ্কানদের। উইকেটে ঘাস দেখেই ভয় পেয়েছিল তারা। যার প্রতিফলন ব্যাটিংয়েও পড়েছে। করুনারত্নে বলেছেন, ‘উইকেটে বেশ ঘাস ছিল, আমরাও ব্যাক ফুটে ছিলাম। নিউজিল্যান্ডের বোলিং আক্রমণ খুব ভালো। কিন্তু যখন আমি ও কুশল পেরেরা ব্যাটিং করছিলাম, তখন আসলে অত সিম মুভমেন্ট বা সুইং ছিল না। কিন্তু যখনই আমরা ব্যাক ফুটে পড়ে গেলাম, তারপর আমরা যতটুকু পারি তাও খেলতে পারিনি।’

সর্বোপরি ব্যাটিং ব্যর্থতাকে দুষেছেন করুনারত্নে। তিনি বলেছেন, ‘কন্ডিশনের চেয়ে আমাদের মনে সমস্যা ছিল বেশি। তারা (কিউই বোলাররা) বেশ গতিময় বোলিং করেছে। কিন্তু সেটা কয়েক ওভারের জন্য। ওখানেই তারা বিষয়টা কঠিন করে তুলেছিল আমাদের জন্য। যদি আমরা ওই সময়টুকু কাটাতে পারতাম, আমরা ভালো অবস্থায় থাকতাম। যদিও এটা এমন উইকেট ছিল না যেখানে ৩০০-৩৫০ রান হবে। আমরা ভালো ব্যাট করিনি, বোলারদের লড়াই করার মতো স্কোর গড়তে পারিনি।’