অবৈধ অভিবাসন ঠেকাইবার ধুয়া তুলিয়া দুর্বল প্রতিবেশী মেক্সিকোকে তুলাধুনা করিতে চাহিতেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত শুক্রবার আচমকা দেশটির বিরুদ্ধে ব্যাপক মাত্রায় বাণিজ্য শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিলেন তিনি। মেক্সিকোকে একহাত দেখাইবার জন্য অবশ্য অনেকদিন ধরিয়াই তক্কে-তক্কে আছেন ট্রাম্প। স্মর্তব্য, নির্বাচনী প্রচারাভিযানকালেই মেক্সিকোর সীমানা-বরাবর শত শত মাইল দেওয়াল নির্মাণের অঙ্গীকার করিয়া শোরগোল তুলিয়াছিলেন তিনি। ভোটের পরেও অনেকবার দেওয়াল নির্মাণের জন্য উঠিয়া-পড়িয়া লাগিয়াছিলেন ট্রাম্প। আইনসভার নিম্নকক্ষ হাউজ অব রিপ্রেজেনটেটিভসের নিয়ন্ত্রণবিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টির নিকট থাকিবার কারণে তাঁহার দেওয়াল নির্মাণের বাজেটটি আপাতত আটকাইয়া গিয়াছে। ইহাতে খানিকটা থমকাইয়া গিয়াছেন ট্রাম্প। তবে তিনি যে ডেমোক্র্যাটদের এহেন অবস্থানে অতিশয় ক্ষুব্ধ তাহা বারংবার জানাইতে দ্বিধা করেন নাই।
মেক্সিকো হইতে আমেরিকাতে আমদানিকৃত পণ্যের উপরে প্রতি মাসে ৫ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ করা হইবে বলিয়া ঘোষণা দিয়াছেন ট্রাম্প। এই হিসাব মোতাবেক আগামী অক্টোবর মাস নাগাদ শুল্ক হার ২৫ শতাংশে ঠেকিবার আশঙ্কা প্রকাশ করিতেছেন বিশ্লেষকেরা। প্রথম দিন যাবতীয় উসকানির মুখে ‘অনড়’ থাকিবার ঘোষণা দিয়াছিলেন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেস মেনুয়েল লোপেজ ওব্রাডর। মেক্সিকো হইতে মেক্সিকান ও মধ্য আমেরিকার অন্যান্য দেশ হইতে আগত লোকজনের আমেরিকায় অনুপ্রবেশ ঠেকাইবার ক্ষেত্রে মেক্সিকো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ লইতেছে না বলিয়া অভিযোগ করিয়াছেন ট্রাম্প। ইহার প্রত্যুত্তরে ওব্রাডর জানান যে এই ক্ষেত্রে মানবাধিকার লঙ্ঘন না করিয়া যতটুকু ব্যবস্থা লওয়া সম্ভব তাহার সবটুকুই করিতেছে মেক্সিকো। অবৈধ অভিবাসনের মতো সমস্যাকে একটি ‘সামাজিক সমস্যা’ হিসাবে বর্ণনা করিয়া এই ক্ষেত্রে শুল্ক আরোপ বা নিপীড়নমূলক ব্যবস্থা কাজ করিবে না বলিয়াও ট্রাম্পকে স্মরণ করাইয়া দেন ওব্রাডর। শনিবার নাগাদ অবশ্য তাঁহার বক্তব্য অনেকটাই নমনীয় হইয়া আসিতে দেখা যায়। সম্ভবত ট্রাম্পের হুমকির মুখে মেক্সিকোর বিপুল রপ্তানি বাণিজ্য ধসিয়া যাইবার আশঙ্কাতেই আমেরিকামুখী মানুষের উপরে অধিকতর কড়াকড়ি আরোপের ঘোষণা দেন তিনি। উল্লেখ্য, মেক্সিকোর অর্থনীতি অনেকটাই আমেরিকাতে পণ্য রপ্তানিনির্ভর। কেবল ২০১৮ সালেই দেশটি বৃহত্ প্রতিবেশীর নিকট ৩৫২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করিয়াছে।
ট্রাম্প যে নূতন ঘোষণার পক্ষে সকল পরামর্শদাতা বা নিজ-দল রিপাবলিকান পার্টির সবাইকে পক্ষে পাইয়াছেন তাহা নহে। সংবাদমাধ্যম সূত্রে প্রকাশ, কখনোই ট্রাম্পের বিরোধিতা করেন না, এমন অনেক রিপাবলিকান এইবারের ঘোষণাটিকে আত্মঘাতী মনে করিতেছেন। উল্লেখ্য, অনেক আমেরিকান কোম্পানি সস্তা শ্রমের সুযোগ লইয়া মেক্সিকোতে কারখানা স্থাপন করিয়া আমেরিকাসহ সারা দুনিয়াতে পণ্য বিক্রয় করে। ট্রাম্পের ঘোষণাতে এইসব কোম্পানি যে আতঙ্কিত হইবে তাহাতে আর বিচিত্র কি! শুক্রবারের ঘোষণার পরপর শেয়ারবাজারের বেশ খানিকটা পতন হইয়াছে, যাহাতে ট্রাম্পের এমন সিদ্ধান্তের বিরোধিতার প্রমাণ পাওয়া যায়। কিন্তু ট্রাম্প সাধারণত নিজের ইচ্ছাতেই চলেন। এইসব দ্বারা তিনি আদৌ প্রভাবিত হইবেন কি না তাহা কে বলিতে পারেন!
