মঙ্গলবার, ০৫ জুলাই ২০২২, ২০ আষাঢ় ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বর্ণিল আয়োজনে বর্ষবরণ

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২২, ০৬:১৭

করোনা মহামারীতে সৃষ্ট দীর্ঘ ২ বছরের স্থবিরতা ভেঙে আবারও পুরনো রূপে উদযাপিত হয়েছে পহেলা বৈশাখ। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও নাঙা আয়োজন নতুন বছরের প্রথম দিনটি উদযাপন করা হয়। মঙ্গল শোভাযাত্রা, দেয়াল পত্রিকা প্রদর্শনী, আলপনা আঁকা সহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সম্মিলিতভাবে বর্ষবরণ করেন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে দেয়াপত্রিকার মোড়ক উন্মোচন। ছবি: ইত্তেফাক

ইত্তেফাকের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা আহসান জোবায়ের জানান, বাংলা বর্ষকে বরণ করে নিতে ভাম্যমাণ দেয়ালিকা 'ষোলআনা বাঙালিয়ানা' প্রদর্শিত হয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ ২০১৭-১৮ বর্ষের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে দেয়ালিকাটি তৈরি করা হয়৷ দেয়ালিকা জুড়ে দেখা যায়, বাঘ, হাতপাখা, পেঁচা, কলসি, ঢাক-ঢোলের বিভিন্ন রঙিন অবয়ব। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের রচিত কবিতা, গল্পের সমাহারও ছিল দেয়ালিকায়।

বেলা ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে দেয়ালিকাটি উন্মোচন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক। বিভাগের শিক্ষার্থী আনন্যামা নাসুহা নুহিন বলেন, আমরা দেয়ালিকাটি মূলত প্রাচীন বাংলায় ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে তৈরি করেছি। এখানে বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীদের লিখা স্থান পেয়েছে। ভ্রাম্যমাণ দেয়ালিকাটির সার্বিক তত্বাবধানে ছিলেন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কাজী নাহিদা বেগম। তিনি বলেন, নববর্ষের প্রারম্ভ লগ্নে বাঙালিয়ানা নবরূপে রাঙিয়ে দিক প্রতিটি মুহূর্ত, এ লক্ষ্যেই আমরা দেয়ালিকাটি প্রদর্শনের উদ্যোগ নেই৷ আগামীর পথচলা সুন্দর সমৃদ্ধ হোক৷

দেয়ালিকার মোড়ক উন্মোচনের সময় উপস্থিত ছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদ, লাইফ এন্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামান খন্দকার, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী সাখাওয়াত হোসেনসহ বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

জাবিতে মঙ্গল শোভাযাত্রা। ছবি: ইত্তেফাক

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা আরিফুজ্জামান উজ্জল জানান, জাবি ক্যাম্পাসে ‘মানুষে মানুষে সম্প্রীতি বয়ে যাক, প্রকৃতি ও প্রত্যয়ে এসো বৈশাখ’ প্রতিপাদ্যে বর্নাঢ্য আয়োজনে বর্ষবরণ উৎসব উদযাপন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) সকাল সোয়া আটটায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন উপাচার্য (রুটিন দায়িত্ব) অধ্যাপক মো. নূরুল আলম। এ সময় অধ্যাপক মো. নূরুল আলম বলেন, বাংলা নববর্ষ উৎসব বাঙালি জাতিসত্ত্বার অবিচ্ছেদ্য অংশ। এ উৎসব বাঙালি সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে। পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রা এখন বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। এই ঐতিহ্য রক্ষা এবং পহেলা বৈশাখের উৎসবের মাত্রা বহুগুণে বৃদ্ধির জন্য বর্তমান সরকার ভাতা প্রদানের মাধ্যমে বিশেষ প্রণোদনা দিচ্ছে

সকাল ১০টায় অধ্যাপক মো. নূরুল আলমের নেতৃত্বে বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ চত্বর থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা শুরু হয়। শোভাযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে অমর একুশের পাদদেশে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক শেখ মো. মনজুরুল হক, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক রাশেদা আখতার, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ ও ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান প্রমূখ।

এদিকে বর্ষবরণ উপলক্ষে সকাল পৌনে দশটায় পুরাতন কলা ভবনের সম্মুখে মৃৎ মঞ্চে নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে। বেলা ১১টায় মহুয়া তলায় বাংলা বিভাগের আয়োজনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়। পরে বেলা সাড়ে তিনটায় জহির রায়হান মিলনায়তনের সেমিনার কক্ষে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র এবং শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়। এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষদ ও বিভাগ পৃথক পৃথকভাবে নানা ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রা। ছবি: ইত্তেফাক

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা মাহবুব এ রহমান জানান, দিনব্যাপী নানা আয়োজনে বাংলা নববর্ষ ১৪২৯ উদযাপন করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বৈশাখী শোভাযাত্রা, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী বলীখেলা, মোরগ লড়াই, বউচি খেলা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দিনব্যাপী মুখর ছিল ক্যাম্পাস।

বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট থেকে একটি শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে শুরু হয় নববর্ষ উদযাপন। এরপর বেলা ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্মুক্ত মঞ্চে বর্ষবরণ উৎসব শুরু হয় সংগীতের মাধ্যমে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক বেনু কুমার দে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্ত মঞ্চে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী বলীখেলা। এরপর চবির জারুল তলায় হয় মোরগ লড়াই এবং চাকসু প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় মেয়েদের বউচি খেলা। চবি বাংলা নববর্ষ উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ড. শহীদুল ইসলাম বলেন, বলীখেলা বাংলার চিরায়িত লোক ঐতিহ্য। বর্ষবরণে নানা আয়োজনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে বলীখেলা বাড়তি আমেজ তৈরি করেছে। বলীখেলা ছাড়াও আমরা শোভাযাত্রা, বউচি খেলা, মোরগ লড়াই ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছি।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রা। ছবি: ইত্তেফাক

ইত্তেফাকের কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) বেলা ১১টায় মঙ্গল শোভাযাত্রা’র মাধ্যমে পহেলা বৈশাখ উদযাপন শুরু হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে শোভাযাত্রাটি  বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রা শেষে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলা নববর্ষ উদযাপন কমিটির আহবায়ক এবং বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. জি. এম. মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, বৈশাখ বাঙালি জাতির গর্ব। আজকের অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ধর্মের লোক রয়েছে। প্রতিটি ধর্ম বাঙালি জাতির সংস্কৃতিকে স্বীকৃতি দিয়েছে। ইসলাম ধর্মও স্থানীয় সংস্কৃতিকে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। আমরা আমাদের বাঙালি সংস্কৃতিকে পুরো বিশ্বে এগিয়ে নিয়ে যাব। 

এসময় অনুষ্ঠানে  উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. মো. মোকাদ্দেস-উল-ইসলাম, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা কার্যালয়ের পরিচালক ড. মোহা. হাবিবুর রহমান, প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) কাজী ওমর সিদ্দিকী, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

এর আগে বুধবার (১৩ এপ্রিল) বিকাল থেকে রাতভর বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল চত্ত্বর থেকে প্রধান ফটক পর্যন্ত আলপনার রঙে রাঙিয়ে তোলা হয়। এছাড়াও নববর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে ককশিটে ফুল, পাখি, মুখোশের চিত্র ফুটিয়ে তুলেন শিল্পীরা।

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রা। ছবি: ইত্তেফাক

ময়মনসিংহের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মো. ফাহাদ বিন সাঈদ জানান, ‘অগ্নি স্নানে শুচি হোক ধরা’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় স্বাগত জানিয়েছে বাংলা নতুন বছর ১৪২৯ বঙ্গাব্দকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে এবারের পহেলা বৈশাখ আয়োজনে নেতৃত্ব দিয়েছে চারুকলা অনুষদ। নতুন বছর শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গাহি সাম্যের গান মঞ্চে অনুষদের শিক্ষার্থীদের প্রভাতী পরিবেশনার মধ্যদিয়ে।

শিক্ষার্থীরা নাচ-গানে সকালের অনুষ্ঠান মুখরিত করে তোলে। জাতীয় সঙ্গীত, নজরুল সঙ্গীত ও রবীন্দ্রগীতির তাল ও ছন্দে উপস্থিত দর্শনার্থীরাও নেচে গেয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানান।

এসময় এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় উপাচার্য প্রফেসর ড. সৌমিত্র শেখর সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, পৃথিবীর বহু জাতির ক্যালেন্ডার নেই। বাঙালি জাতির ক্যালেন্ডার রয়েছে। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাঙালি যে সুশৃঙ্খল, একটি পরম্পরার জাতি তার প্রমাণ এই ক্যালেন্ডার। আকাশ থেকে এই ক্যালেন্ডার বা দিনপঞ্জিকা এসে পড়েনি। বরং বাংলা মাসের নামকরণ হয়েছে নক্ষত্র গমনাগমনের উপর ভিত্তি করে। এই সব ইতিহাস তরুণ প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে হবে।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শুরু হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. সৌমিত্র শেখরের নেতৃত্বে গোটা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নেয়। শোভাযাত্রাটি ভিসি বাংলোর সামনে থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ভিসি বাংলোর সামনে গিয়েই শেষ হয়। বৈশাখী সাজে এই শোভাযাত্রায় সামনে-পেছনে বাদ্যের তালে তালে চলে নৃত্য, সবার হাতে হাতে ছিল বাহারি মুখোশ। পুষ্পাকৃতির চরকি, টেপা পুতুল আর পাখির শিল্পকাঠামো শোভাযাত্রাকে দেয় বাঙালির চিরায়ত আবহ।

শোভাযাত্রায় অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. নজরুল ইসলাম, কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. আহমেদুল বারী, রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হুমায়ুন কবীর, প্রক্টর ড. উজ্জ্বল কুমার প্রধান, পরিচালক (ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা) তপন কুমার সরকার, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. শেখ সুজন আলী, সাধারণ সম্পাদক তুহিনুর রহমান, উদযাপন কমিটির সভাপতি ড. এমদাদুর রাশেদ সুখন, সদস্য সচিব ড. সিদ্ধার্থ দে, কর্মকর্তা পরিষদের সভাপতি প্রকৌশলী জোবায়ের হোসেন, সাধারন সম্পাদক রামিম আল করিম, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবু প্রমুখ।

নোবিপ্রবিতে মঙ্গল শোভাযাত্রা। ছবি: ইত্তেফাক

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাবিহা তাসমিম বিন্তি জানান, উৎসবমুখর পরিবেশে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) বাংলা নববর্ষ ১৪২৯ উদযাপন করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) পুরাতন বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে বরণ করে নিতে মঙ্গল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। শোভাযাত্রায় বিভিন্ন প্রতীকী চিত্রের মাধ্যমে বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতিকে তুলে ধরা হয়। শোভাযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে শেষ হয়।

মঙ্গল শোভাযাত্রায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ দিদার উল আলম। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন নোবিপ্রবি’র উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুল বাকী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক উদ্দিন, নোবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. নেওয়াজ মোহাম্মদ বাহাদুর, আইআইএসের পরিচালক অধ্যাপক ড. ফিরোজ আহমেদ, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন, নোবিপ্রবি অফিসার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন পলাশ প্রমুখ। 

শোভাযাত্রায় অংশ নেন বিভিন্ন অনুষদসমুহের ডিন, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, হলের প্রভোস্ট, শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ, দপ্তরসমূহের পরিচালক, অফিসার্স এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গল শোভাযাত্রা শেষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. দিদার-উল-আলম সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, ‘সবাইকে বাংলা নববর্ষ-১৪২৯ বঙ্গাব্দের আন্তরিক শুভেচ্ছা। বাঙালির জীবনে বাংলা নববর্ষ প্রধানতম একটি অনুষ্ঠান। বাঙালির চিরায়ত এ উৎসবে পুরাতন বছরের জরা-গ্লানিকে ভুলে নতুন বছর সবার জীবনে বয়ে আনুক আনন্দের বার্তা। বাঙালির চিরাচরিত সংস্কৃতি-ঐতিহ্য হৃদয়ে ধারণ করে নতুন বছরে সবাইকে নিয়ে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাব এই প্রত্যাশা করছি। বাংলা নতুন বছর সকলের জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল সুখ, শান্তি আর সমৃদ্ধি।’

হাবিপ্রবিতে বর্ষবরণে বর্ণিল শোভাযাত্রা। ছবি: ইত্তেফাক

ইত্তেফাকের হাবিপ্রবি সংবাদদাতা যোবায়ের ইবনে আলী জানান, দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) বিভিন্ন আয়োজনের মধ্যে দিয়ে বাংলা নববর্ষ ১৪২৯ উদযাপিত হয়েছে। উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. কামরুজ্জামান এর নেতৃত্বে সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে ক্যাম্পাসে 'বর্ণিল শোভাযাত্রা' বের করা হয়।

শোভাযাত্রাটি টিএসসি'র সম্মুখ হতে শুরু হয়ে পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। শোভাযাত্রায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. বিধান চদ্র হালদার, রেজিস্ট্রার, প্রক্টর, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালকসহ অন্যান্য শিক্ষক, কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন। শোভাযাত্রা শেষে বেলা ১১টায় টিএসসি’র সামনে শিশুদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় এবং দুপুর ১২ টায় চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এছাড়াও নববর্ষ উপলক্ষ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগ। সবশেষে বাদ যোহর কেদ্রীয় মসজিদে দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ষবরণ। ছবি: ইত্তেফাক

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা মো. মোস্তাফিজুর রহমান রাকিব জানান, ইবি-তে মঙ্গল শোভাযাত্রায় গ্রামবাংলার ঐতিহ্যকে তুলে ধরে বাংলা নববর্ষ ১৪২৯ কে বরণ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা নকশি পাখা, একতারা, চালন, কুলা, কলসি, কৃষকের মাথার টুপি, মাছ ধরার পলইসহ বিভিন্ন প্রতিকৃতির মাধ্যমে বাঙালি সংস্কৃতিকে তুলে ধরেন।

বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবন চত্বরে আনন্দের প্রতীক বেলুন উড়িয়ে বর্ষবরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. শেখ আবদুস সালাম। পরে ‘মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা; অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা’ স্লোগানে উপাচার্যের নেতৃত্বে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়।

শোভাযাত্রায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন বিভাগ এবং সামাজিক সংগঠনগুলো অংশ নেয়। শোভাযাত্রাটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে অনুষদ ভবন সংলগ্ন বটতলায় এসে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় মিলিত হয়। এতে উপাচার্য প্রফেসর ড. শেখ আবদুস সালাম, উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মাহবুবুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মঙ্গল শোভাযাত্রা উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. সরোয়ার মুর্শেদ। এসময় সাবেক উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. কামাল উদ্দীন, প্রক্টর প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর হোসেন, পরিবহন প্রশাসক প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন, চারুকলা বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. মামুনুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

ইত্তেফাক/এসটিএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

ঢাবির ‘ক’ ইউনিটের ফল প্রকাশ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়: আবাসিক ভবনে থাকেন না উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষসহ হল প্রাধ্যক্ষরা!

বঙ্গবন্ধুর শৈশব ঘিরে আমাদের শিক্ষা সফর 

২৫০ শিক্ষার্থী নিয়ে এনইউ স্কিল ডেভেলপমেন্ট সামিট

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

পারিবারিক-মানবিক শিক্ষার অভাবেই শিক্ষক হত্যা-লাঞ্ছনা

কুবির বাজেট ঘোষণা, গবেষণায় বরাদ্দ বেড়েছে ৭৯ শতাংশ 

দ্বিতীয় শতকে জাতির চাহিদা পূরণ করবে ঢাবি: উপাচার্য

ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাচ্ছেন ইবি শিক্ষার্থীরা