গঙ্গাচড়ায় বিষমুক্ত লিচু চাষ

আপডেট : ০২ জুন ২০১৯, ২২:০২

কমল কান্ত রায়, গঙ্গাচড়া (রংপুর) সংবাদদাতা

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় চাষ হচ্ছে বিষমুক্ত লিচু। জৈব ও বালাইনাশক পদ্ধতিতে করা হচ্ছে লিচু উত্পাদন। শ্রমিকসংকট, মজুরি বেশি এবং ওলিদের জীবনী থেকে বাগিচা (বাগান) করার স্বপ্নকে লালন করে আজ বাস্তবে রূপ দিয়েছেন তিনি উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের উত্তর পানাপুকুর গ্রামের আব্দুর রশিদ। ওই গ্রামেই ২০০০ সালে ২ হাজার টাকা শতক দরে প্রথমে এক একর, পরে ২০০৫ সালে  ২৭ হাজার টাকা শতক দরে ৫৩ শতক জমি ক্রয় করেন। বাগানে মোট জমির পরিমাণ ১ একর ৫৩ শতক। সেখানে গাছ আছে ২৪০টি। করেছেন বিষমুক্ত লিচু চাষের বাগান। বিষমুক্ত লিচু উত্পাদনে সার্বিক সহযোগিতা করেছে গঙ্গাচড়ার আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, বুড়িরহাট কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ শাকসবজি, ফল ও পান ফসলের পোকামাকড় ও রোগবালাই ব্যবস্থাপনায় জৈব বালাইনাশকভিত্তিক প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় কীটতত্ত্ব বিভাগ, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, গাজীপুর  ও আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র বুড়িরহাট, রংপুর উপজেলার উত্তর পানাপুকুর গ্রামে আব্দুর রশিদের বাগানে বিষমুক্ত লিচু চাষ কর্মসূচি গ্রহণ করে।

বাগানমালিক আব্দুর রশিদ জানান, ২০০৮-০৯ সাল থেকে লিচু ধরা শুরু হয় গাছে। তবে ২০১১ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে লিচু বিক্রি শুরু করেন। সেই বছরে ২ লাখ টাকার লিচু বিক্রি করেন তিনি। পরের বছরগুলোতেও ২ লাখের বেশি টাকা করে লিচু বিক্রি করেছেন। এ বছরও প্রায় ৩ লাখ টাকার লিচু বিক্রি করবেন বলে তিনি আশা করছেন।তার বাগানে চায়না-২,৩ ছাড়া বোম্বাই জাতে লিচু আছে। তিনি আরো বলেন, বাজারে বিষমুক্ত লিচুর চাহিদা  বেশি। ব্যবসায়ীরা বাগান থেকে লিচু নিয়ে যাবে। বছরে তার ৪০ হাজার থেকে ৪৫ হাজার টাকা শ্রমিক খরচ হয়।

এ প্রকল্পের কাজের সঙ্গে জড়িত আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, বুড়িরহাট, রংপুরের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. হারুন অর রশিদ বলেন, ‘আমরা সাত-আট বছর থেকে রশিদকে সহযোগিতা করেছি। তবে কীটনাশকমুক্ত লিচু উত্পাদনে এবারই প্রথম।’

আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, বুড়িরহাট, রংপুরের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আশীষ কুমার সাহা বলেন, বাজারে সব কিছুই তো ভেজাল। এজন্য সরকার বিশেষ করে শাকসবজি, ফল, পান ও ফসলে কীটনাশক না দিয়ে জৈব বালাইনাশকের মধ্যমে চাষাবাদের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।

কীটতত্ত্ব বিভাগ, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, গাজীপুরের  মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রধান ড. দেবাশীষ সরকার বলেন, এ প্রকল্পের মাধ্যমে সারাদেশে ২০টি জেলা ও ২১টি উপজেলায় জৈব বালাইনাশকভিত্তিক প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এর মধ্যে রংপুরের গঙ্গাচড়া ও মিঠাপুকুর উপজেলায় এ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরো কয়েকটি ফসলেও কাজ চলবে।