মিষ্টিকুমড়া চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন মানিকগঞ্জের ঘিওরের কৃষকরা। উপযুক্ত মাটি, ভালো আবহাওয়া আর কৃষকদের সঠিক পরিচর্যায় বাম্পার ফলন হয়েছে মিষ্টিকুমড়ার। সেই সঙ্গে রাজধানীর সঙ্গে ভালো যোগাযোগব্যবস্থার কারণে সহজেই মিলছে পাইকারি ক্রেতারা। পাইকাররা খেত থেকেই নগদ টাকায় কিনে নিচ্ছেন কুমড়া। কৃষকরা দামও পাচ্ছেন ভালো। ফলে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে কুমড়ার চাষ।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকার শতাধিক চাষি অন্যান্য ফসলের সঙ্গে মিষ্টিকুমড়া চাষ করে সংসারে এনেছেন সচ্ছলতা। অল্প সময়, স্বল্প খরচ আর ভালো ফলনে কৃষকরা অনেক খুশি। তাই বেকার যুবকরা ঝুঁকছেন কুমড়া চাষে। অধিক লাভ এবং দীর্ঘদিন অপচনশীল থাকার জন্য কৃষি বিভাগও দিচ্ছে প্রযুক্তি সহায়তা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কৃষকদের সহজশর্তে ঋণ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া গেলে কুমড়া চাষ বদলে দিতে পারে এ এলাকার কৃষিনির্ভর অর্থনীতি।
উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের প্রায় গ্রামেই কমবেশি কুমড়ার চাষ হয়ে থাকে। তবে বালিয়াখোড়া, চঙ্গশিমুলিয়া, মাইলাঘী, বড় বিলা, বাঙ্গালা, বরুরিয়া, পয়লা, কুইষ্টা, পুরান গ্রাম, নালী, বানিয়াজুরী এলাকায় উল্লেখযোগ্য হারে কুমড়ার আবাদ হয়।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ঘিওরে প্রায় ৪০০ হেক্টর জমিতে মিষ্টিকুমড়ার চাষ হয়েছে। চলতি বছর তিন বিঘা জমিতে মিষ্টিকুমড়ার আবাদ করেছেন উপজেলার বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের পুরান গ্রামের কৃষক আলম মিয়া। তিনি জানান, মিষ্টিকুমড়ার চাষের জন্য জমি তৈরি, সার ও কীটনাশক প্রয়োগ ও কৃষকদের মজুরিসহ সবমিলে বিঘাপ্রতি খরচ হয় প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা। প্রতিবিঘা জমিতে ৮০০ থেকে প্রায় ১ হাজার পরিমাণে মিষ্টিকুমড়া পাওয়া যায়। যার পাইকারি বাজারদর ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা। তবে স্থানীয় বাজারে খুচরা বিক্রি করলে প্রায় দ্বিগুণ মুনাফা পাওয়া সম্ভব বলেও জানান চাষিরা।
পয়লা গ্রামের কৃষক বারেক মৃধা জানান, প্রতিটি কুমড়া আকার ভেদে ১০ টাকা থেকে ৭০ টাকা দরে খেত থেকেই পাইকারি ব্যবসায়ীরা কিনে নিয়ে যায়। তাই বাড়তি কোনো ঝামেলা পোহাতে হয় না। এককালীন নগদ টাকাও পাওয়া যায়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ বিপুল হোসেন বলেন, কৃষকরা অন্যান্য ফসলের সঙ্গে মিষ্টিকুমড়ার চাষ করছে। ভালো ফলন হওয়ায় গত কয়েক বছর থেকে চাষিরা মিষ্টিকুমড়ার আবাদ করছেন। মৌসুমভিত্তিক ফসল চাষের জন্য কৃষি অফিস থেকে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

কৃষকের দোর গোড়ায় তথ্য সেবা