কক্সবাজারের চকরিয়ার ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের আবদ্ধ সিংহী নদী গুরুত্বর অসুস্থ। আড়াই মাসে একাধিক বার বিশেষজ্ঞ টিম নিয়ে বোর্ড বসালেও সুস্থ হয়ে উঠছে না সিংহীটি। এমনটি জানিয়েছেন পার্কের তত্ত্বাবধায়ক মো. মাজহারুল ইসলাম।
তিনি জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে রক্ষিত আবদ্ধ সিংহী (নদী নামে পরিচিত) গত ১৯ ফেব্রুয়ারি একই বেষ্টনী সঙ্গী পুরুষ সিংহের (সম্রাট) সঙ্গে মারামারি করে গুরুতর আহত হয়। সিংহটি সুস্থ হয়ে উঠলেও সিংহী নদীর গলার নিচে জখম থেকে পানি ঝরছিল। গত ২২ ও ২৭ ফেব্রুয়ারি পার্কের বর্তমান ভেটেরিনারি কর্মকর্তা ডা. হাতেম সাজ্জাত জুলকার নাইন চিকিৎসা দেন।
তত্ত্বাবধায়ক আরো জানান, এরপরও সিংহীর গলার নিচ থেকে পানি ঝরা বন্ধ না হওয়ায় ২৮ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, চকরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এবং পার্কের ভেটেরিনারি অফিসার হাতেম সাজ্জাত জুলকার নাইনসহ পাঁচ সদস্যের বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক দ্বারা মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে অসুস্থ নদীকে (সিংহীটিকে) চিকিত্সাসেবা দেয়। কিন্তু এরপরও দিন দিন খাদ্যগ্রহণ কম করতে থাকে এবং মুখ থেকে লালা ঝরা কমেনি। ২৭ মার্চ হতে একেবারেই খাবার গ্রহণ বন্ধ করে দেয় নদী। এ সময়ে সিংহীটি সব সময় জিহবা বের করে রাখে এবং লালা ঝরার পরিমাণও বেড়ে যাওয়ায় আবারও চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই জন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, চকরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এবং পার্কের ভেটেরিনারি অফিসারসহ চার সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড দ্বারা সিংহীটিকে চিকিত্সাসেবা প্রদান অব্যাহত রাখা হয়।
ঘা পরীক্ষা করে দেখা গেছে, সেখানে ব্যাকটেরিয়া ইনফেকশন করেছে। পার্কের ইনচার্জ মাজহারুল ইসলাম বলেন, রোগের কোনো উন্নতি না হওয়ায় সিংহীটি আরো দুর্বল হয়ে পড়ছে। এরপরও বোর্ডের পুরোনো সিদ্ধান্ত মতে ৭ এপ্রিল চকরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আবারও অসুস্থ সিংহীকে চিকিৎসা দেয়। যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা চেয়ে গত ৮ এপ্রিল বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের চট্টগ্রামস্থ বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কাছে পত্র পাঠানো হয়েছে। এখনো সিংহীর শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত বলে উল্লেখ করেন পার্ক তত্ত্বাবধায়ক মো. মাজহারুল ইসলাম।
