আহসান জোবায়ের, জবি সংবাদদাতা
ঈদের আনন্দকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে তুলতে বন্ধু বা পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার বিকল্প নেই। ঢাকাবাসীর বিনোদনের চাহিদা মেটাতে সরকারি-বেসরকারি বিনোদনকেন্দ্রে ছুটির দিন ছাড়াও সাধারণ দিনগুলোতে ভ্রমণপিপাসুদের সরব উপস্থিতি চোখে পড়ে। এবার বেশ লম্বা ছুটি পড়ায় অনেকে পাড়ি জমিয়েছেন ঢাকার বাইরে। তবে যারা ঢাকায় থাকবেন তারা চাইলে নিম্নোক্ত যে কোনো জায়গা থেকে খুব সহজেই ঘুরে আসতে পারেন।
আহসান মঞ্জিল: পুরান ঢাকার ইসলামপুরে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে মোগল আমলের ঐতিহ্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আহসান মঞ্জিল। খোলা থাকে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রবেশমূল্য জনপ্রতি ২০ টাকা। ১২ বছরের নিচের শিশু ও প্রতিবন্ধীদের জন্য জাদুঘর উন্মুক্ত। লালবাগ কেল্লা: এটি ঢাকার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত প্রাচীন দুর্গ। মোগল আমলে স্থাপিত এই দুর্গটি একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন। পুরান ঢাকার ভিড় ঠেলে কেল্লার সদর দরজা দিয়ে ঢুকলেই চোখে পড়বে পরীবিবির মাজার। এখানে আছে দরবার হল, নবাবের হাম্মামখানা। আছে শাহী মসজিদ। রয়েছে একটি জাদুঘরও। খোলা থাকে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। টিকেটের মূল্য ২০ টাকা। পাঁচ বছরের নিচের শিশুদের টিকেট লাগবে না। ঢাকা চিড়িয়াখানা: শিশুদের প্রধান আকর্ষণের একটি ঢাকা চিড়িয়াখানা। মিরপুরে অবস্থিত এই চিড়িয়াখানা খোলা থাকবে সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। দুই বছর পর্যন্ত শিশুদের জন্য টিকেট লাগবে না।
উত্তরার দিয়াবাড়ী: ভ্রমণপিয়াসী মানুষের জন্য বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরের দিয়াবাড়ী জায়গাটি। এখানে লেকের পাড়ে গড়ে উঠেছে বোট হাউস। বাঁশ ও কাঠের কাঠামো দিয়ে বানানো হয়েছে বসার জায়গা। সারি দিয়ে বাঁধা প্যাডেল বোট। ঘণ্টা ভিত্তিতে ভাড়া করে ঘুরতে পারবেন। তবে একটু দামাদামি করেই উঠতে হবে। এছাড়া থাকছে নানা ধরনের খাবারের দোকান ও রেস্তোরাঁও। হাতিরঝিল: একটু সন্ধ্যা হলেই বেশি জমে ওঠে হাতিরঝিল। ইটপাথরের এই ব্যস্ত শহরে ক্লান্তিকর নাগরিক জীবনে হাতিরঝিল হয়ে উঠেছে মনোরম এক বিনোদন কেন্দ্র।
সাগুফতা: জায়গাটা বেশ নিরিবিলি, গাছগাছালি আর বসার জায়গা আছে। কালশী থেকে মিরপুর ডিওএইচএস পর্যন্ত সংস্কার হওয়া নতুন রাস্তার পাশে কিছুটা ফাঁকা জায়গা এবং ঝিল থাকায় অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসছেন। এ জায়গাটি অনেকের কাছে ‘সাগুফতা’ নামে পরিচিত। বুড়িগঙ্গা ইকোপার্ক: শ্যামপুরে প্রায় সাত একর জায়গার ওপর গড়ে উঠেছে পার্কটি। সবুজ বৃক্ষরাজি আর বুড়িগঙ্গা নদী মিলে পার্কটিকে করে তুলেছে নয়নাভিরাম। শানবাঁধানো নদীর ঘাটে নৌকা বাঁধা। চাইলে এখানে নৌকায় করে ঘুরতে পারেন। ফ্যান্টাসি কিংডম: এই থিম পার্কে ঈদের দিন থাকছে কনসার্ট, নাচ প্রতিযোগিতাসহ নানা আয়োজন। তাছাড়া বাম্পার বোট, বাম্পার কার, ইজিডিজি, জুজু ট্রেন, রোলার কোস্টার, ম্যাজিক কার্পেট, প্যাডল বোট।
নন্দন পার্ক: সাভারের নবীনগরের নন্দন পার্কে নানা রকম রাইড আর ওয়াটার ওয়ার্ল্ডের পাশাপাশি আছে খুদে চিড়িয়াখানাও। ঈদ উপলক্ষে কনসার্টের ব্যবস্থা থাকছে এখানে। নন্দন পার্ক খোলা থাকে বেলা সাড়ে ১১টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত। শিশুমেলা: শ্যামলীতে রয়েছে শিশুদের জন্য অন্যতম একটি বিনোদনকেন্দ্র শিশুমেলা। এটি খোলা থাকে বেলা ১১টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত। যমুনা ফিউচার পার্ক: যমুনা ফিউচার পার্কে থাকছে নানা রকম মজার রাইড, ব্লক বাস্টারে রোমাঞ্চকর মুভি দেখার সুযোগ। এছাড়া রয়েছে শিশুদের জন্য অনেক ধরনের রাইড।
