এই ম্যাচটা নিয়ে ছিলো অনেক জল্পনা কল্পনা।
দেশ ছাড়ার আগে থেকে শুরু করে বারবারই বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক-খেলোয়াড়রা বলেছেন, বিশ্বকাপে তাদের ভালো করার শর্ত প্রথম ম্যাচে ভালো করা। সেই স্বপ্ন সত্যি হয়েছে। ব্যাটসম্যান-বোলারদের সমন্বিত এক আক্রমণে বাংলাদেশ গুঁড়িয়ে দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকাকে।
এক সময়ের বিশ্বসেরা দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২১ রানে হারিয়ে বাংলাদেশ শুরু করলো এবারের বিশ্বকাপ অভিযান। আগে ব্যাট করে বাংলাদেশ রেকর্ড ৩৩০ রান করেছিলো ৬ উইকেটে। জবাবে দক্ষিণ আফ্রিকা ৮ উইকেটে ৩০৯ রান করে।
আগে ব্যাট করে গত তিন ম্যাচে এশিয়ার তিন দল যাচ্ছেতাই করেছিলো। তাই বাংলাদেশকে নিয়েও সেই শঙ্কা ছিলো। কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা সমন্বিত এক পারফরম্যান্স করে উড়িয়ে দিলেন সব শঙ্কা। ওয়ানডে ক্রিকেটে নিজেদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস খেললো গতকাল বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের বিশাল স্কোরের জবাব দিতে দক্ষিণ আফ্রিকার শুরুটা মোটামুটি ভালোই হয়েছিলো। বিনা উইকেটে ৪৯ রান করেছিলো তারা। কুইন্টন ডি ককের রান আউটের ভেতর দিয়ে বাংলাদেশ প্রথম ব্রেক থ্রু পায়। এরপর এইডেন মার্করামের উইকেট তুলে নেন সাকিব। এখান থেকে অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসি ও ডেভিড মিলার আবার একটা ভালো জুটি করেন। ডু প্লেসিকে ৬২ রানে বোল্ড করেন মিরাজ। আর দুই বার জীবন পাওয়া মিলারের উইকেট নেন মুস্তাফিজ। এরপরও দক্ষিণ আফ্রিকা লড়াইয়ে ছিলো। ভ্যান ডার ডুসেন ও জেপি ডুমিনি চেষ্টা করছিলেন। দুই উইকেটই তুলে নিয়ে খেলা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন সাইফউদ্দিন। শেষ দিকে এসে রান-বলের সমীকরণ যখন জমে উঠেছে, তখন মুস্তাফিজ তুলে নেন মরিস ও ডুমিনির উইকেট। আর এখানেই কার্যত শেষ হয়ে যায় খেলা।
এর আগে বাংলাদেশকে ৬০ রানের উদ্বোধনী জুটি এনে দেন তামিম ও সৌম্য। তামিম তুলনামূলক ধীরগতির ইনিংস খেলেন। তিনি ২৯ বলে ১৬ রান করে আউট হন। তবে বিপরীত প্রান্তে ঝড় তোলেন সৌম্য সরকার। তিনি ৩০ বলে করেন ৪২ রান। এই দু’জন ফেরার পর সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম ১৪২ রানের জুটি করেন। বিশ্বকাপে যে কোনো উইকেট জুটিতে বাংলাদেশের এটা সর্বোচ্চ সংগ্রহ।
অলরাউন্ডার সাকিব ৮৪ বলে ৮টি চার ও একটি ছক্কায় ৭৫ রান করে ফেরেন। এরপরও মোহাম্মদ মিঠুনকে নিয়ে চলেছেন মুশফিক। মিঠুন ২১ বলে ২১ রানের ইনিংস খেলেন। তখন পর্যন্ত মুশফিকের সেঞ্চুরিটাকে বাস্তব বলে মনে হচ্ছিলো। কিন্তু ৮০ বলে ৮টি চারে ৭৮ রান করে আউট হয়ে যান মুশফিক। এরপর বাংলাদেশকে রেকর্ড রান এনে দেওয়ার কাজটা করেন মাহমুদউল্লাহ।
মাহমুদউল্লাহকে দারুণ সঙ্গ দেন মোসাদ্দেক সৈকত। ২০ বলে সৈকত করেন ২৬ রান। অন্য দিকে রিয়াদ ৩৩ বলে ৩টি চার ও একটি ছক্কায় ৪৬ রান করে অপরাজিত থাকেন।
বাংলাদেশের করা এই ৬ উইকেটে ৩৩০ রান ওয়ানডে ইতিহাসে নিজেদের সর্বোচ্চ রান। এর আগে ২০১৫ সালে বাংলাদেশ পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩২৯ রান করেছিলো। আর বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ছিলো এর আগে ৩২২ রান; স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ২০১৫ বিশ্বকাপে করেছিলো তারা।
অভিনন্দন
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম খেলায় জয় দিয়ে শুভসূচনা করায় বাংলাদেশ দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরিন শারমীন চৌধুরী।
এছাড়া অভিনন্দন জানিয়েছেন জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এবং সাধারণ সম্পাদক, সাবেক মন্ত্রী শেখ শহীদুল ইসলাম।
বাংলাদেশ
তামিম ক ডি কক ব ফেলুকওয়াও ১৬
সৌম্য ক ডি কক ব মরিস ৪২
সাকিব ব ইমরান তাহির ৭৫
মুশফিক ক ডুসেন ব ফেলুকওয়াও ৭৮
মিঠুন ব ইমরান তাহির ২১
মাহমুদউল্লাহ অপরাজিত ৪৬
মোসাদ্দেক ক ফেলুকওয়াও ব মরিস ২৬
মিরাজ অপরাজিত ৫
অতিরিক্ত (লেবা ৯, ও ১২) ২১
মোট (৫০ ওভারে ৬ উইকেটে) ৩৩০
উইকেট পতন : ১/৬০ (তামিম), ২/৭৫ (সৌম্য), ৩/২১৭ (সাকিব), ৪/২৪২ (মিথুন), ৫/২৫০ (মুশফিক), ৬/৩১৬ (মোসাদ্দেক)।
ব্যাট করেননি : সাইফুদ্দিন, মাশরাফি, মুস্তাফিজ।
বোলিং : এনগিদি ৪-০-৩৪-০, রাবাদা ১০-০-৫৭-০, ফেলুকওয়াও ১০-১-৫২-২,
মরিস ১০-০-৭৩-২, মার্করাম ৫-০-৩৮-০, ইমরান তাহির ১০-০-৫৭-২, ডুমিনি ১-০-১০-০।
দক্ষিণ আফ্রিকা
ডি কক রানআউট (মুশফিক) ২৩
মার্করাম ব সাকিব ৪৫
ডু প্লেসিস ব মিরাজ ৬২
মিলার ক মিরাজ ব মুস্তাফিজ ৩৮
ডুসেন ব সাইফুদ্দিন ৪১
ডুমিনি ব মুস্তাফিজ ৪৫
ফেলুকওয়াও ক সাকিব ব সাইফুদ্দিন ৮
মরিস ক সৌম্য ব মুস্তাফিজ ১০
রাবাদা অপরাজিত ১৩
ইমরান তাহির অপরাজিত ১০
অতিরিক্ত (বাই ৪, নো ১, ওয়াইড ৯) ১৪
মোট ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ৩০৯
উইকেট পতন : ১/৪৯ (ডি কক), ২/ ১০২ (মার্করাম), ৩/১৪৭ (ডু প্লেসিস), ৪/২০২ (মিলার), ৫/২২৮ (ডুসেন), ৬/২৫২ (ফেলুকওয়াও), ৭/২৭৫ (মরিস), ৮/২৮৭ (ডুমিনি)।
বোলিং : মুস্তাফিজ ১০-০-৬৭-৩, মিরাজ ১০-০-৪৪-১, সাইফুদ্দিন ৮-১-৫৭-২, সাকিব ১০-০-৫০-১, মাশরাফি ৬-০-৪৯-০, মোসাদ্দেক ৬-০-৩৮-০।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ : সাকিব আল হাসান
