সিরাজগঞ্জ-সুনামগঞ্জে বাস লেগুনা সংঘর্ষ, নিহত ১৬

আপডেট : ০২ জুন ২০১৯, ২২:৩৫

মানুষ যখন ঈদের আনন্দ উপভোগ করার জন্য ঘরমুখী তখনই পৃথক চারটি সড়ক দুর্ঘটনায় আবারো ঝরলো ১৮ প্রাণ। এদের মধ্যে বাস-লেগুনা কেন্দ্রিক দুটি দুর্ঘটনা ঘটেছে সিরাজগঞ্জ ও সুনামগঞ্জে। অন্যদিকে, ঈদের আনন্দ উপভোগ করার জন্য সপরিবারে নাটোরে গ্রামের বাড়ি যাবার সময় মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় মারা গেছে ৮ বছর বয়সী শিশু তাসনিম। তার পরিবারের অন্য পাঁচ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছে। আর ফুলপুরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন এর আরোহী। এসব ঘটনায় আহত হয়েছে প্রায় ৩০ জন। ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর:

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি ও উল্লাপাড়া সংবাদদাতা জানান, উল্লাপাড়া উপজেলার বড়হর ইউনিয়নের বোয়ালিয়া বাসস্ট্যান্ডের কাছে বোয়ালিয়া ব্রিজের উপর গতকাল রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বগুড়া-নগরবাড়ি মহাসড়কে কোচ ও লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে ৯ জন নিহত হয়েছে। নিহতরা সবাই লেগুনার যাত্রী।

এ ব্যাপারে হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ওসি আব্দুল কাদের জিলানী, উল্লাপাড়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার নাদির হোসেন ও সিরাজগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক আব্দুল হামিম জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পাবনাগামী পাবনা এক্সপ্রেস পরিবহন (ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-৭৮৩৭) বোয়ালিয়া ব্রিজের উপর ওঠা মাত্র উল্লাপাড়া থেকে ছেড়ে আসা হাটিকুমরুলগামী একটি লেগুনার সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ঘটনাস্থলে ৮ জন ও পরে চিকিত্সাধীন অবস্থায় আরো ১ জন নিহত হয়। নিহতরা হলেন, উল্লাপাড়া উপজেলার পাগলা বোয়ালিয়া গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে রেজাউল করিম (৩২), কয়ড়া কৃষ্টপুর গ্রামের রেজাউল করিমের ছেলে ভাদালিয়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক নুরুল ইসলাম (৪৫), জয়নাল আবেদিনের ছেলে জুলমাত আলী (৪০), সোহরাব আলীর ছেলে ফজলুল হক (৩৫), বজ াপুর গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে শেখ আলী (৫৫), তারা বাড়ি গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে আব্দুল বারি (৩৪), চৌকান্দি গ্রামের আব্দুল গফুরের ছেলে আব্দুর মান্নান (৫০), চরিয়া উত্তরপাড়া গ্রামের আজাহার আলীর ছেলে আব্দুল গফুর (৪৯) এবং সদর উপজেলার কোনাগাঁতী গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে হাফিজ উদ্দিন (৩২)।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সুনামগঞ্জ জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া গনিগঞ্জ এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস ও লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে লেগুনার চালকসহ ঘটনাস্থলেই নিহত হন ৭ জন এবং গুরুতর আহত হয়েছেন ৬ জন। নিহতদের মধ্যে আছেন, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের দূর্বকান্দা গ্রামের মো. সাগর মিয়া (১৬), একই গ্রামের মো. লিমন মিয়া (১৭), আফজাল মিয়া (১৭) ও লেগুনার চালক জয়কলস ইউনিয়নের ঘাগলি গ্রামের মো. নোমান (২৮)। অন্যদের নাম জানা যায়নি।

রবিবার সকাল আনুমানিক ৮টায় ঢাকা থেকে ‘লিমন’ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস দিরাই যাচ্ছিল। অপরদিকে দিরাই থেকে সুনামগঞ্জে আসার পথে একটি যাত্রীবাহী লেগুনা উপজেলার পাথারিয়া ইউনিয়নের গনিগঞ্জ এলাকায় আসামাত্র মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে বাসটি পার্শ্ববর্তী খাদে পড়ে যায়।

বড়াইগ্রাম (নাটোর) সংবাদদাতা জানান, নাটোরের বড়াইগ্রামে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মারিয়া তাসনিম (৮) নামে এক শিশু নিহত ও একই পরিবারের আরো পাঁচজন আহত হয়েছে। ঈদ করতে গ্রামের বাড়ি যাবার পথে রবিবার সকাল ১০টার দিকে বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের বনপাড়া পাটোয়ারী ফিলিং স্টেশনের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত তাসনিম ঢাকার কদমতলী থানায় কর্মরত উপ-পরিদর্শক আব্দুল জলিলের মেয়ে।

বনপাড়া হাইওয়ে থানার ওসি দেলোয়ার হোসেন জানান, সকালে ঢাকা থেকে ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতে এসআই আব্দুল জলিল সপরিবারে একটি হাইয়েস মাইক্রোবাসে (ঢাকা মেট্রো ছ ১৯-২৭৮৫) নাটোরের সিংড়ায় যাচ্ছিলেন। পথে বনপাড়া এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাইক্রোটি মহাসড়কের পাশের গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে উল্টে যায়।

ফুলপুর (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা জানান, ঢাকা-শেরপুর  মহাসড়কের ফুলপুর উপজেলার চাঁনপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। নিহত যুবক হচ্ছেন হোসেনপুর গ্রামের আব্দুল মান্নানের পুত্র মোফাখারুল ইসলাম শিবলু (৩৮)। তার সঙ্গী এই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। শিবলুর মোটরসাইকেলে তার সহকর্মী  ফয়সাল আহমেদ (৩৮) শ্বশুরবাড়ি বাঁশাটি আসছিলেন।

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি জানান, লক্ষ্মীপুরে ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশার যাত্রী পুন্নি আক্তার ও খুশি আক্তার নামের দুই নারী নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় এক শিশুসহ আহত হয়েছে আরো তিন জন। গতকাল বিকাল সাড়ে চারটার দিকে লক্ষ্মীপুর-ঢাকা-রায়পুর মহাসড়কের দালাল বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে রাখা হয়েছে। আহত শিশু শাহেদ, গাড়ির চালক সোহেলসহ তিন জনকে স্থানীয়ভাবে চিকিত্সা দেওয়া হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী আনোয়ার হোসেন জানান, রায়পুর থেকে ছেড়ে আসা একটি ট্রাক ওই অটোরিকশার পেছনে ধাক্কা দেয়। এ সময় অটোরিকশাটি ধুমড়ে মুচড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান খুশি আক্তার। আহত পুন্নিকে ঢাকায় নেওয়ার পথে মারা যান তিনি। পুন্নি সদর উপজেলার গঙ্গাপুর এলাকার শাহ আলমের স্ত্রী ও খুশি একই এলাকার শাহজানের স্ত্রী।